ajker kagoj 24
Latest Bangla News

সৌদি আরবে মারা গেছেন ৮৫ বাংলাদেশী

পিবিএ,ডেস্ক: বাংলাদেশসহ বিশ্বে করোনাভাইরাসে প্রতিদিন আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকরাও আছেন। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরবে শুক্রবার পর্যন্ত ৮৫ জন বাংলাদেশী প্রবাসী মারা গেছেন। তাদের লাশ নিয়ম মেনে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সৌদি আরবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে লকডাউনের পাশাপাশি এখন কারফিউ চলছে। তারপরও বৃহস্পতিবার ২ হাজারের মতো লোক আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত কতজন প্রবাসী বাংলাদেশী করোনাভাইরাসে মারা গেছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেসরকারি হিসাবে ৮৫ জনের মতো বাংলাদেশী মারা গেছেন। তবে সরকারি হিসাবে তারা আমাদের জানিয়েছে ৪০-৪৫ জন। প্রবাসে যারা মারা যাচ্ছেন তারা তো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে (বৈধ-অবৈধ) ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন। এর বাইরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছে তাদের কি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ সরকারের কাছ থেকে পাওয়া উচিত কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, অবশ্যই এর বাইরেও করোনায় যারা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যদেরই আর্থিক সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
এখন পর্যন্ত দেশটিতে অসহায় প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য কি পরিমাণ ত্রাণ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেয়া সম্ভব হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মন্ত্রণালয় থেকে রিয়াদের জন্য ৭০ লাখ টাকা এবং জেদ্দার জন্য ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। তবে এটা অপ্রতুল। তা ছাড়া এই বিষয়টি তো চলমান। এর জন্য আমরা নতুন করে কয়েক কোটি টাকা (৩ কোটি টাকা) বরাদ্দ চেয়ে জরুরি ভিত্তিতে গত সপ্তাহে ঢাকায় আবেদন পাঠিয়েছি। তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না তা জানতে পারিনি।
সৌদি আরব থেকে ১০ লাখ শ্রমিক দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে সম্প্রতি ঢাকার একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, যদি রিপোর্টে করোনার কারণে ১০ লাখ লোক ফেরত যাওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে- তাহলে সেটি ভুল। মূলত সৌদি সরকার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সৌদি আরবে কর্মরত ৭০% বিদেশী কর্মী ছাঁটাই করে যার যার দেশে ফেরত পাঠাবে। সেই জায়গায় তারা তাদের নাগরিকদের চাকরি দেবে। দ্বিতীয়ত তেলের দাম ১২০ ডলার ছিল। সেটি নেমে এখন ১৫-২০ ডলার হয়েছে। এর কারণে প্রচুর প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল হয়ে যাবে। তৃতীয়ত তারা অটোমেশন, রোবট ব্যবহার শুরু করেছে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় এবং মেইনটেন্যান্সে। সেখানেও প্রচুর লোক কমে যাবে। এসব কারণেই মূলত আমরা সৌদি সরকারে সিদ্ধান্ত জেনে বলেছি, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে ৫-১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত যেতে পারে। তিনি বলেন, কোভিডের কারণেও অনেক কোম্পানির অবস্থা খারাপ হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে। সেক্ষেত্রেও কিছু লোক ফেরত যেতে পারে।
সৌদি কারাগারে আটক বাংলাদেশীদের দেশে ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখান থেকে প্রতিনিয়ত লোক ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে কোভিডের কারণে এখন বিমান চলাচল বন্ধ। শুরু হলে তারা কারাগার থেকে ৪ হাজার শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠাবে।
পিবিএ/এএম

You might also like