ঈদ সামনে রেখে টুং-টাং শব্দে ব্যস্ত চৌদ্দগ্রাম কামাররা

প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২০

এম এ আলম, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি,

চৌদ্দগ্রাম পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। সামনে আগুনের শিখায়-তাপ দেয়া, হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা-বঁটি চাপাতি ও ছুরি।
পশু কোরবানিতে এসব দেশীয় প্রয়োজন হবে সবার। নতুন তৈরির সঙ্গে চৌদ্দগ্রামের সব জায়গায় কামাররা সমান ব্যস্ত পুরনো দা-বঁটি, ছুরি ও চাপাতিতে শাণ দিতে। তাই যেন দম ফেলারও সময় নেই কামারদের। সারা বছর অনেকটা অলস সময় কাটায় কামাররা। ব্যস্ততার ভিড়ে এখন অতিরিক্ত দরদাম করে সময় নষ্ট করতেও আগ্রহী নন তারা। চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন বাজারে কামারের দোকানে ঘুরে দেখা যায়, কোরবানি দাতারা কোরবানির পশু কাটাছেঁড়া করার জন্যে পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত দা-বঁটি ও ছুরি শাণ দেয়ার জন্যে নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। এর ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা। অন্য সময়ের চেয়ে দোকানে মৌসুমি কর্মচারীর সংখ্যাও বেড়েছে।চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কামার দোকানগুলোতে কারিগরদের যেমন ব্যস্ততা বেড়েছে তেমনি বিক্রি করতে গিয়েও গলদগর্ম হয়ে পড়ছেন বিক্রেতারা।এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ওয়াবদা গেইডএর সামনে রতন কর্মকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণত স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা ব্যবহার করে দা-বঁটি ও ছুরি তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। এছাড়াও লোহার মানভেদে স্প্রিং লোহা ৩৫০ টাকা, নরমাল ২৫০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ৬০ থেকে ১০০, দা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বঁটি ২০০ থেকে ৪০০, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে শুরু, চাপাতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয় বলে জানান তিনি। অপরদিকে, উপজেলার লাকসাম রোডস্থ সমুন কর্মকার বলেন, বছরের ১১ মাসে ব্যবসা হয় না এক রকম আর কোরবানির ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা হয় আরেক রকম। ঈদুল আজহা উপলক্ষে চৌদ্দগ্রাম সব কামারের দোকান দারদের বেচা-বিক্রি ও ব্যস্ততা বেড়ে যায়।