• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৪ অপরাহ্ন
  • English Version

চৌদ্দগ্রাম চিওড়া দুই স্ত্রীদ্বয়ের সন্তানদের মাঝে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে পিতার লাশ দাফনে বিলম্ব

রিপোর্টার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০

এম এ আলম, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই পরিবারের সন্তানদের মাঝে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে সঠিকভাবে বন্টন না করায় এক বৃদ্ধের লাশ দাফনে বাধা দিয়েছে সন্তানরা।

মৃত্যুর দুইদিন অতিবাহিত হলেও বিবাদমান বিষয়টি নিয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় নিহতের নিথর দেহ এখনো পড়ে আছে নিজগৃহে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের কবরুয়া গ্রামে। নিহতের নাম মোঃ নুরুল হক ভূঁইয়া(৭৮)। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ
ঘটনাস্থলে গিয়ে সমস্যা নিরসনের জন্য কাজ করছে। (৮ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুই দিন হয়েছে এখনও লাশ দাফন করা হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে নুরুল হক ভূঁইয়া তাঁর নিজ ঘরে ব্রেইন স্ট্রোক করলে পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে কুমিল্লা মুন হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।গত (৭ ডিসেম্বর) সোমবার সকাল নয়টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে তাঁর দুই পরিবারের সন্তানরা সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে লাশ দাফনে জটিলতা তৈরি করে।

নিহতের পরিবার সূত্রে আরো জানা গেছে, নুরুল হক ভূঁইয়া প্রায় ৫০ বছর পূর্বে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কাগাইশ গ্রামের মজুমদার বাড়ীর আয়েশা আক্তারকে ইসলামী শরীয়াহ্ধসঢ়; মোতাবেক বিবাহ করেন। নুরুল হক-আয়েশা দম্পতির সংসারে ছয় কন্যা সন্তান রয়েছে। চট্টগ্রাম স্টীল মিলে চাকুরীর সুবাধে সুরমা আক্তার নামে সন্দ্বীপের আরেক নারীকে বিয়ে করেন। নুরুল হকের দ্বিতীয় সংসারে দুই ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। তিনি নতুন বাড়ি করে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বসবাস করতে থাকেন। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে নুরুল হক ভুঁইয়া তাঁর প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি অবহেলা করতে থাকেন। এরই সুবাধে দ্বিতীয় স্ত্রী তাঁর সন্তানরা মিলে নুরুল হক ভুঁইয়াকে ফুসলিয়ে ১৪০ শতক জমি কবলা তাদের নামে নেন।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে প্রথম স্ত্রী ও তাঁর কন্যাদেরকে হুমকি প্রদর্শন করে দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে-মেয়েরা। পরে নুরুল হক ভুঁইয়ার প্রথম স্ত্রী বাদি হয়ে সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যা দাবি করে চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টির নিস্পত্তি করা হলেও বাড়িতে এসে প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা আবারও সম্পত্তি থেকে তাদের বঞ্চিত রাখে। সমস্যা সমাধান না করেই নুরুল হক ভুঁইয়া সোমবার সকালে মৃত্যুবরণ করলে পিতার সম্পত্তির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে লাশ দাফনে বাধা প্রদান করে প্রথম স্ত্রীর ছয় ‘মেয়ে’ সন্তান। এ সময় দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানরা প্রথম স্ত্রীর কন্যাদেরকে সম্পত্তি নিতে অস্বীকার করে প্রবাস থেকে ছেলে নুরুল আফছার মোবাইলে গ্রামবাসীকে বলেন, ‘বাবার লাশ দাফনের দরকার নেই, আমরা কাউকে এক কড়া সম্পত্তিও দেব না’। স্থানীয় ইউপি সদস্য পেয়ার আহমেদ বলেন, ‘নিহত নুরুল হক ভুঁইয়ার দুই পরিবারের শান্তির জন্য এবং তাঁর লাশ
দাফনের ব্যবস্থায় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি’।

এ বিষয়ে ( ৮ডিসেম্বর) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই কামাল হোসেন বলেন, ‘সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে
পিতার লাশ দাফনে বাধা দেয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পরিবার ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে আলোচনা স্বাপেক্ষে সমাধান করা হচ্ছে। শিগগিরই নিহতের লাশ দাফন করা হবে’


এই বিভাগের আরো খবর