ajker kagoj 24
Latest Bangla News

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন রেসলার বাবা

রেসলার শাড গ্যাসপার্ড

পিবিএ,ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই নেতিবাচক এক খবরে শিরোনাম হয়েছিলেন তুরষ্কের ফুটবলার বাবা সেভার টক্তাস। কোয়ারেন্টাইনে ৫ বছরের ছেলে সন্তানকে নিজ হাতে খুন করেছিলেন তিনি। বাবার কাছেও সন্তান নিরাপদ নয়- এমন এক ভুল বার্তাই দিচ্ছিল সেভারের এই ঘটনা।

আর তার এ ঘটনাটি যে নিছকই ব্যতিক্রম, তার প্রমাণ দিলেন সাবেক আমেরিকান রেসলার শাড গ্যাসপার্ড। নিজের জীবনের বিনিময়ে বাঁচিয়েছেন ১০ বছর বয়সী ছেলে আরিয়াহকে। ছেলেকে বাঁচানোর প্রয়াসে গভীর সমুদ্রে তলিয়ে গেছেন ৩৯ বছর বয়সী গ্যাসপার্ড।

গত রোববার লকডাউনের মধ্যে প্রথমবারের মতো সমুদ্র সৈকত উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছিল। সেদিনই ছেলেকে নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনিস সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিলেন গ্যাসপার্ড। হঠাৎ এক ঢেউ এসে তীর থেকে প্রায় ৭৫ গজ দূরে ছিটকে নিয়ে যায় বাবা-ছেলেকে।

তৎক্ষণাৎ সেখানকার লাইফগার্ড বিষয়টি খেয়াল করে এবং ছুটে যায় বাবা-ছেলেকে বাঁচানোর জন্য। লাইফগার্ডকে দেখে গ্যাসপার্ড অনুরোধ করছিলেন আগে ছেলেকে বাঁচানোর জন্য। সে কথা মোতাবেক আরিয়াহকে পারে রেখে আসেন সেই লাইফগার্ড।

মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই তিনি ফিরে যান গ্যাসপার্ডের কাছে। কিন্তু বড় এক ঢেউ এসে তলিয়ে নিয়ে যায় গ্যাসপার্ডকে। পরে আর দেখা যায়নি তাকে। তলিয়ে যাওয়ার আগে বাবা গ্যাসপার্ডের আকুতি ছিল, ‘আমার ছেলেকে বাঁচাও, আমার ছেলেকে বাঁচাও।’

সৈকতের ঐ সেকশনের লাইফগার্ড প্রধান কেনিচি হাসকেট এই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তীর থেকে প্রায় ৭৫ গজ দূরে দুজন মানুষকে বাঁচানোর জন্য আমাদের লাইফগার্ড কর্মী ছুটে যায়। গ্যাসপার্ড সেই লাইফগার্ডকে দেখতে পাচ্ছিল এবং আরিয়াহর দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করছিল। গ্যাসপার্ডের শেষ কথা ছিল, আমার ছেলেকে বাঁচাও, আমার ছেলেকে বাঁচাও।’

হাসকেট আরও বলেন, ‘মাত্র ৬০ সেকেন্ডের ভেতরেই সেই লাইফগার্ড গ্যাসপার্ডকে উদ্ধারের জন্য যায়। সে গ্যাসপার্ডকে দেখেছিল। তখনই একটা ঢেউ এসে গ্যাসপার্ডকে ডুবিয়ে দেয়। আর দেখা যায়নি তাকে।’

পরে তার খোঁজে প্রায় তিনদিন ধরে সাতটি ভিন্ন ভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল এলাকা খুঁজেও হদিস মেলেনি গ্যাসপার্ডের। বুধবার সকালে সমুদ্র থেকে ভেসে আসে একটি মরদেহ। পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস সেটিকে গ্যাসপার্ডের মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেছে।

পিবিএ/এসডি

You might also like