SYEDA SHEFA
আজ : ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, রবিবার প্রকাশ করা : জানুয়ারি ১, ২০২২

  • কোন মন্তব্য নেই

    শিকলে বাঁধা ‘সুস্থ’ ছেলে, দেড় মাস পর ‘কঙ্কাল’ পেলেন বাবা-মা

    এলাকায় চুরিচামারি করতেন ২৫ বছর বয়সী অভি মিয়া। কোনো একটা অপরাধ ঘটিয়েই ছাড়তেন গ্রাম। কিছুদিন পর ফের হাজির হতেন। তবে হঠাৎ একদিন বাড়িতে হাজির হন রক্তাক্ত শরীরে। এরপর ঘুপচি ঘরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখেন বাবা। এভাবেই দেড় মাস বন্দি রাখা হয়।

    টানা দেড় মাস বেঁধে রাখলেও নিয়মিত খাবার দেননি সৎ মা। খোলেননি দরজাও। দিনের পর দিন খাবার না পেয়ে কঙ্কালসার হয়ে পড়েন অভি। খেতে না দিয়ে শেষমেশ ছেলের ‘কঙ্কালসার’ লাশ পেলেন বাবা-মা।

    ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরিষাপুর গ্রামের। শুক্রবার দরজা খুলতেই তার মরদেহ দেখেন স্বজনরা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভি মিয়া একই গ্রামের রেলওয়ে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মো. অহিদ মিয়া ও সৎ মা নারগীস বেগম দম্পতির ছেলে।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিকে বন্দি রাখলেও ঠিকমতো খাবার দেননি বাবা-মা। এভাবে তালাবদ্ধ করে ফেলে রাখলেও ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি তারা। ফলে ক্ষুধা আর চিকিৎসার অভাবে ছেলেটি মারা যান।

    পুলিশ জানায়, শনিবার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে। এ খবর পেয়েও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন পরিদর্শনে না যাওয়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

    বাজিতপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিকে খাবার খেতে না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভি অবহেলা ও তাচ্ছিল্যজনিত মৃত্যুর শিকার হলে এর দায় বর্তাবে পরিবারের ওপর। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

    মো. অহিদ মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান অভি। অভির মায়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তিনি লাপাত্তা। নারগীস বেগম মো. অহিদ মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী।

    অমানবিক এ মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে অভির মরদেহ দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন শত শত নারী-পুরুষ। ঘুপচি ঘরটায় থাকা চৌকিতে যেন অভির মরদেহ মিশে আছে। গ্রামবাসীরা জানায়, অভি চুরিচামারি করতেন। কোনো একটা অপরাধ ঘটিয়েই তিনি গ্রাম ছেড়ে চলে যেতেন। আবার কিছুদিন পর এসে হাজির হতেন।

    প্রায় দেড় মাস আগে ‘নিখোঁজ’ অভি আহত অবস্থায় বাড়ি এসে হাজির হন। পরে ঘরের বারান্দার একচালা কোঠায় অভিকে শিকলবন্দি করে তালা লাগিয়ে রাখেন তার বাবা। গ্রামবাসী অভিযোগ করে, এরপর নিয়মিত তাকে খাবার দেননি সৎ মা।

    প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, দিনের পর দিন অভির কোঠার দরজাটাও খোলা হয়নি। এক বৃদ্ধা বলেন, ‘বাইন্ধা রাখছিন, দুষ আছিন না, খাওন দিত! না খাওয়াইয়া ছেরাডারে হেরা মাইরা লাইল।’

    অভির বাবা মো. অহিদ মিয়া জানান, অতিষ্ঠ হয়েই তিনি ছেলেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অভি খেতে পারত না।’ অভির সৎ মা নারগীস বেগমও একই কথা বলেন।

    Source: PBA

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.

    © স্বত্ব আজকের কাগজ ২৪ ডট নেট ।২০১৮-২০২১
    সম্পাদক ও প্রকাশক: কামরুল হাসান চৌধুরি
    পিয়াস বিল্ডিং পূর্ব শাহী ঈদগাহ, টিবি গেইট , সিলেট
    ফোন: ০১৭১১০০০২১৪ , ইমেইল: ajkerkagoj24@gmail.com
    %d bloggers like this: