রাজশাহীর তানোরে লেবার ছাড়াই কাগজ কলমে হাজিরা দেখিয়ে চলছে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ


নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশের সময় : মে ৩০, ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ণ /                
রাজশাহীর তানোরে লেবার ছাড়াই কাগজ কলমে হাজিরা দেখিয়ে চলছে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ

আশরাফুল ইসলাম রনজু রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তানোরে লেবার ছাড়াই কাগজ কলমে হাজিরা দেখিয়ে চলছে কর্মসৃজন প্রকল্প। এপ্রকল্প কাজে নয়, কাগজের মাধ্যমে নয়-ছয় করে প্রকল্পের অর্থ হরিলুট করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত লাখ লাখ টাকা হরিলুট করা হচ্ছে। এ হরিলুটে রয়েছেন খোঁদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আর সচিবরা। প্রতিটি প্রকল্পে ৩৫ জন করে লেবার বরাদ্দ থাকলেও তা কেবল কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। প্রকল্প এলাকায় নামে মাত্র কয়েকজন লেবার থাকলেও কাগজে কলমে দেখানো হচ্ছে শতভাগ হাজিরা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের যোগসাজশেই দূর্নীতির এমন মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে, প্রকল্প চলমান এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। ভূয়া নামের তালিকা তৈরি করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মহীন শ্রমজীবিদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচী প্রকল্প চালু করেছে সরকার। মাঠে কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এতে সপ্তাহে পাঁচদিন সরকারিভাবে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কথা শ্রমিকদের।

উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ইউনিয়নে ৩১৫ জন লেবারের বিপরীতে কাজ করছেন মাত্র ৫ থেকে ১০ জন শ্রমিক। অর্থাৎ ৩১৫ জন শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া যায় মাত্র ৫ থেকে ১০ জন শ্রমিক। বাকি শ্রমিকরা কোথায় কাজ করছে তার কোন খবর জানেন না ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের পিআইসি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন দফতর ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতেই এভাবে খাতা কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতি দেখিয়ে বাস্তবে নামমাত্র শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

এব্যাপারে উপজেলার কামারগাঁ ইউপি চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন ও সরনজাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, প্রকল্পের কোথায় কত লেবার বরাদ্দ তার কোন খবর জানা নেই। এসব কাজ মেম্বারদের দেখভালের দায়িত্ব বলে এড়িয়ে যান তিনি।

তানোর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, যেখানে যে কয়জন শ্রমিক কাজ করছেন সেই তালিকা অনুযায়ী বিল প্রদান করা হবে। সরকারি প্রকল্পে কোন অনিয়ম-দূর্নীতি আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি