রাজশাহীর তানোরে সুবিধাভোগীদের ভাতা বন্ধ সাত মাস


নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশের সময় : মে ২০, ২০২১, ৯:২৯ অপরাহ্ণ /                
রাজশাহীর তানোরে সুবিধাভোগীদের ভাতা বন্ধ সাত মাস

আশরাফুল ইসলাম রনজু রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে সুবিধাভোগীদের ভাতা প্রদানের নামে সাত মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। এতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এ অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণির ভাতাভোগী। এ নিয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। জানা গেছে, পুরো উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় প্রায় ৩০ হাজার বিভিন্ন শ্রেণির ভাতাভোগী রয়েছেন। এর মধ্যে বয়স্কভাতা, বিধবা ও পরিত্যক্তা দুস্থ মহিলা ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, দলিত বিশেষ বয়স্ক ভাতা, হিজড়া বিশেষ বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, দলিত শিক্ষা উপবৃত্তি ও হিজড়া শিক্ষা উপবৃত্তি ছাড়াও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিশেষ শিক্ষা সহায়তার এককালীন অনুদানসহ ২০টির মতো ভাতা তিন মাস পরপর প্রদান করা হয়। সম্প্রতি এসব সুবিধাভোগীদের বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ‘নগদ’ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এজন্য তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু ‘নগদ’ অ্যাকাউন্ট খোলার অজুহাতে আর ভাতা দেওয়া হয়নি। এভাবে তিন মাসের স্থলে সাত মাস পরও ভাতা পাচ্ছেন না সুবিধাভোগীরা। এদিকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিতীয় ধাপে মানবিক সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৯ এপ্রিল জেনারেল রিলিফ (জিআর) প্রকল্পের আওতায় ২০ লাখ টাকা তানোর উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্রের আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব বরাদ্দ থেকে তানোর পৌরসভা এক লাখ টাকা, মুন্ডুমালা পৌরসভা দেড় লাখ টাকা ও প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় আড়াই লাখ টাকা করে পায়। বরাদ্দের এসব টাকা বিভাজন করে পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যানরা তাদের আস্থাভাজন সচ্ছল ব্যক্তিদের ৫০০ টাকা করে পাইয়ে দিয়েছেন। গত ২৮ এপ্রিল উত্তোলন করে ৬ মে পর্যন্ত বিতরণ করতে দেখা গেছে। কিন্তু অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীরা বিগত সাত মাস ধরে কোনো ভাতা না পেলেও জেনারেল রিলিফের এতটুকু সাহায্য ও সহায়তা দেওয়া হয়নি এ অঞ্চলের প্রতিবন্ধীদের। এ ব্যাপারে মুন্ডুমালা পৌরসভার মেয়র সাইদুর রহমান বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা হিসাবে জিআর প্রকল্পের আওতায় কাউন্সিলরদের তালিকা মোতাবেক ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়। আর প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ওইভাবে বলা হয়নি। এজন্য তাদের ভাগ্যে জিআর প্রকল্পের টাকা জোটেনি বলে এড়িয়ে যান তিনি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান বলেন, সরকারের নির্দেশনা মেতাবেক ‘নগদ’ নামের মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিকে ভাতাভোগীর তালিকা প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তাদের গাফিলতির কারণে বিগত সাত মাস ভাতা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজচন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত নন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে ভাতা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।