রাজশাহীর তানোরে চাচির পরকীয়া জেনে যাওয়া খুন হয়েছেন প্রকাশ কুমার


নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশের সময় : মে ১০, ২০২১, ১:২৫ অপরাহ্ণ /                
রাজশাহীর তানোরে চাচির পরকীয়া জেনে যাওয়া খুন হয়েছেন প্রকাশ কুমার

আশরাফুল ইসলাম রনজু রাজশাহী প্রতিনিধিঃচাচির পরকীয়া জেনে যাওয়া খুন হয়েছেন রাজশাহীর তানোরের প্রকাশ কুমার (১৯)। ছয় দিনের মাথায় ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে তানোর থানা পুলিশ।

এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন নিহতের চাচা উপজেলার এনায়েতপুর চোরখৈর গ্রামের বাসিন্দা বিমল সিং (৫০), তার স্ত্রী অঞ্জলী রাণী (৩৫), এই দম্পতি বড় ছেলে সুবোধ সিং (১৮) এবং অঞ্জলী রাণীর পরকীয়া প্রেমিক নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার সাদাপুর খরিবাড়ি এলাকার বাদল (৪৫)।

পুলিশি জেরার মুখে এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন এরা। এনিয়ে রাজশাহীর আদালতে পৃথক-পৃথকভাবে জবানবন্দিও দেন গ্রেফতারকৃত চার আসামি। গত ২৮ এপ্রিল রাতে প্রকাশ কুমার উপজেলার কলমা ইউনিয়নের এনায়েতপুর চোরখৈর গ্রামের নির্জন রাস্তায়খুন হন প্রকাশ। পরদিন সকালে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত প্রকাশ ওই গ্রামের নির্মল সিং এর ছেলে। রাজশাহী নগরীর মিষ্টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নবরূপের কর্মী ছিলেন তিনি। লকডাউনে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। এনিয়ে ২৯ এপ্রিল সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা। মামলা নম্বর- ২৬।

তানোর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, মামলার প্রধান আসামিসহ খুনের সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, বিমল সিং এর স্ত্রীর সঙ্গে তিন বছর ধরে পরকীয়া চলছিল পার্শ্ববর্তী নিয়ামতপুর উপজেলার সাদাপুর খরিবাড়ি এলাকার রাজমিস্ত্রী বাদলের। স্বামীর অবর্তমানে প্রায় বাদলের সাথে শারীরিক সর্ম্পকে লিপ্ত হতেন অঞ্জলী।

তবে লকডাউনের কারণে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বিমল সিং এর ভাতিজা প্রকাশ কুমার। তিনি চাচির পরকীয়ার বিষয়টি জেনে যান। জানাজানির শঙ্কায় চাচি অঞ্জলী ও তার পরকীয়া প্রেমিক বাদল প্রকাশকে খুন করার পরিকল্পনা করেন। অঞ্জলী এই পরিকল্পনায় যুক্ত করেন স্বামী ও বড় ছেলেকে।

গত ২৮ এপ্রিল দিনগত রাতে কৌশলে বিমল ও তার ছেলে সুবোধ প্রকাশকে এনায়েতপুর চোরখৈর ফসলি মাঠের নির্জন রাস্তার ধারে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বাদল ও অঞ্জলী। পরে চারজনে মিলে প্রকাশকে গলাকেটে হত্যা করে।

ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছিলো পুলিশ। এরপর ১ মে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন প্রধান আসামি বাদল। তাকে সাত দিনের রিমাণ্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যাকান্ডের ঘটনা।