রাজশাহীর তানোরে পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে চাঁদাবাজী মামলার ৩ আসামী


নিউজ ডেস্কঃ প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২১, ৭:৫২ অপরাহ্ণ /                
রাজশাহীর তানোরে পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে চাঁদাবাজী মামলার ৩ আসামী

আশরাফুল ইসলাম রনজু রাজশাহী প্রতিনিধি, রাজশাহীর তানোরে প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে ঘুরে বেড়াচ্ছে টাঁদাবাজী মামলার ৩ আসামী। রহস্যজনক কারনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না তানোর থানা পুলিশ। ফলে, আসামীদের অব্যহত হুমকি ধামকিতে অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মামলার বাদি। এদের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা হয়েছে । তানোর থানায় মামলা নং১৬ একটি চাঁদাবাজি একটি ও ডিজিটাল আইসিটি মামলা একটি । আসামি ১ নং – মোঃ মনিরুজ্জামান মনি , ২ নং- মোঃ আব্দুর সবুর , ৩ নং- মোঃ আলিফ হোসেন আর ডিজিটাল আইনে আসামি মোঃ সারোয়ার হোসেন। এরা দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষের নিকট চাঁদাবাজি করে আসছিল । চাঁপাই নবাবগঞ্জ থানায় সারোয়ার ও আলিফ হোসেনের নামে মাদক ব্যবসা দায়ে মামলা রয়েছে। অপর দিকে সবুরের নামে মাদকের একটি মামলা তানোর থানার চলমান । তানোরের জনগণের অভিযোগ শেষ নাই তাদের বিরুদ্ধে । মামলার বিবরণ পুলিশ ও এলাকা বাসী সুত্রে জানা গেছে, তানোর পৌর সদরের গুবির পাড়া মহল্লার আব্দুল হান্নানের পুত্র মনিরুজ্জামাম মনি (৩৫), একই মহল্লার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র আব্দুস সবুর (৩৮) ও গোল্লাপাড়া মহল্লার মৃত ছলিম উদ্দীনের ছেলে আলিফ হোসেন (৩৯)’র বিরুদ্ধে তানোর থানায চাঁদাবাজর মামলা দায়ের করা হয়। তানোর উপজেলার দর্গাডাঙ্গা বাজারের সেবা ডেন্টাল কেয়ারের মালিক তানোর উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের পুত্র ডেন্টাল পল্লী চিকিৎসক মাহাবুর রহমান বাদি হয়ে ১৪ এপ্রিল তানোর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। তানোর থানার মামলা নম্বর ১৬, তারিখ ১৪/০৪/২০২১ ইং। ধারা ৩৮৫,৩৮৬,৫০৬। মামলা দায়েরের ২০ দিনেও গ্রপ্তার না হওয়ায় প্রভাবশালী ওই ৩ যুবক মামলার বাদিকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতিসহ হুমকি প্রদান অব্যহত রেখেছেন। ফলে, মামলার বাদিসহ তার পরিবারের লোকজন নিরপাই হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তানোর পৌর সভার সাবেক এক কাউন্সিলর বলেন, চাঁদাবাজি মামলার আসামীরা এলাকাসহ উপজেলা পরিষদ চত্বর ও পৌর ভবনের আশেপাশে প্রকাশ্য বীরদর্পেই তো ঘুরে বেড়াচ্ছে। এনিয়ে মামলা বাদি মাহাবুর রহমান বলেন, মামলা তুলে নিতে প্রভাবশালী আসামীরাসহ তাদের লোকজন বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতিসহ অব্যহত ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। মামলা দায়েরের ২০ দিনেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করছেন না। তিনি বলেন এক দিকে আসামীরা তাদের নিজ বাড়ির আশে পাশে একদিকে বসে থাকছে তার কিছু দুরেই পুলিশের গাড়ি দেখা যাচ্ছে অথচ পুলিশ তাদেরকে না দেখার ভান করছে। মামলার বিবরনে উল্ল্যেখ করা হয়েছে, ১৩ এপ্রিল ওই ৩ যুবক দর্গাডাঙ্গা বাজারের সেবা ডেন্টাল কেয়ারে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয দিয়ে ডেন্টাল কেয়ারের কাগজপত্র নাই জানিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে দোকানের মালিক মাহাবুর রহমানের পকেট থেকে জোরপুর্বক ১ হাজার টাকা বের করে নেয় এবং আরো ৯ হাজার টাকা পরদিন সকালে রেডি রাখতে বলে ঘটনাস্থর ত্যাগ করেন ওই ৩ যুবক। এঘটনায় ওইদিনই ১৪ই এপ্রিল সেবা ডেন্টাল কেয়ারের মালিক মাহাবুর রহমান বাদি হয়ে তানোর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তানোর থানা পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে পরদিন ১৪ই এপ্রিল অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন। তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, মামলাটির আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এসআই স্বপন কুমার সরকারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোর থানার এসআই স্বপন কুমার সরকার বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।