• রবিবার, ০৯ মে ২০২১, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

অসতর্কতায় বাড়ছে মৃত্যুসংখ্যা

Avatar
নিউজ ডেস্কঃ
আপডেট : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

এক সপ্তাহ ধরে কঠোর লকডাউন চললেও দিনদিন রাজধানীতে বাড়ছে সাধারণ মানুষের চলাচল। ও যানবাহন সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে করোনায় মৃতের সংখ্যাও। চেকপোস্ট বসিয়ে জরিমানা করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না নগরবাসীর অপ্রয়োজনীয় চলাচল।

লকডাউনের শুরুতে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ শক্ত অবস্থানে থাকলেও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২/৩ দিন ধরে শিথিলতা লক্ষ করা যাচ্ছে সেই কড়াকড়িতেও। রাজধানীর পাড়ামহল্লাগুলোতে লকডাউনের শুরুতে পুলিশের সাথে লুকোচুরি করে দোকান খোলা রাখলেও এখন দরজা খুলেই ব্যবসা করছে দোকানিরা। আর সন্ধ্যার পর চায়ের দোকানের আড্ডায় জনসমাগম যেন বেড়েই চলেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন চেকপোস্টে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদ খুব একটা করা হচ্ছে না। সন্দেহ হলেই কেবল জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাস্তায় মানুষের উপস্থিতিও ছিল গত কয়েকদিনের তুলনায় বেশি। একাধিক চেকপোস্টে দায়িত্বরতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে লকডাউনে মুভমেন্ট পাস চেক করাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। যা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিজেদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে কাজ করতে গিয়েও যদি অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। উপরন্তু এতে পুলিশ বাহিনীরও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তারা (পুলিশ) কিছুটা ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছেন। তাদের মতে, জনসাধারণ যদি সহযোগিতা না করে তাহলে জোর করে বেশি বাধ্য করানো যায় না।

গতকাল মিরপুর-১০, ১৩, ১৪, কালশি ও বনানী চেকপোস্ট ঘুরে দেখা যায়, সকালে দিকে কিছুটা জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে অধিকাংশ যানবাহনই জিজ্ঞাসাবাদ এড়িয়েই চেকপোস্ট অতিক্রম করেছে। তবে বেশ কিছু রিকশাকে রাস্তায় উল্টিয়ে রাখতে দেখা গেছে। এ প্রসঙ্গে মিরপুর-১০ নম্বরে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ জানান, লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এটা এক ধরনের প্রতীকী সাজা। ঘণ্টাখানেক পরই এসব রিকশা ছেড়ে দেওয়া হবে। শেওড়াপাড়ায় বসবাসকারী মাসুম মিজান নামে এক ব্যংক কর্মকর্তা জানান, তার অফিস পুরানা পল্টনে। লকডাউনের শুরুর কয়েকদিন অফিস যেতে বেশ কয়েকটি পুলিশ চেকপোস্টে জিজ্ঞাসাবাদেও মুখোমুখী হতে হলেও গত দুই দিন তেমনটি হয়নি।

গতকাল রাজপথে সিএনজি অটোরিকশার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই যাত্রীরা এসব সিএনজিতে শেয়ারে যাতায়াত করছেন। কচুক্ষেতে সিএনজি অটোরিকশাচালক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও অনেকে অফিস খোলা আছে। তাই অফিসগামী যাত্রীরা শেয়ারে সিএনজিতে চলাফেরা করছে। তবে মাঝেমধ্যে পুলিশের জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় মৃতের সংখ্যা যতখানি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে স্বাস্থ্যবিধি পালনে ঠিক ততখানিই উদাসীনতা লক্ষ করা যাচ্ছে। কোভোডি-১৯ (করোনা) সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব রক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিলেও নানান কৌশলে সাধারণ মানুষ তা এড়িয়ে যাচ্ছে। গত সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস এক সংবাদ সন্মেলনে বলেন, বিভিন্ন দেশের জনগণের মধ্যে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উদাসীনতার জন্য এই ঝুঁকি দিন দিন বেড়ে চলেছে।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও রিকশা গত কয়েকদিনের তুলনায় বেশি। রাস্তা ও ফুটপাতেও মানুষের চলাচল আগের তুলনায় বেড়েছে। মূল সড়কে তুলনামূলকভাবে লোক চলাচল কম থাকলেও পাড়া-মহল্লার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। বিশেষ করে আসরের নামাজের পর বাড়তে থাক এই ভিড়। ইফতারের পর পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান আর মোড়ে মাড়ে জমে আড্ডা। লকডাউনের শুরুতে পাড়া-মহল্লাগুলোতে পুলিশের টহল গাড়ি দেখে দোকানিরা ঝাপ নামিয়ে দিলেও এখন তাও করছে না। অন্যদিকে পুলিশের টহলও কমে গেছে মহল্লার ভেতরে।

তবে লকডাউনের বিধিনিষেধ যেন যথাযথভাবে জনসাধারণ পালন করে তা নিশ্চিতে আগের মতই পুলিশ দায়িত্বপালন করছে বলে দাবি করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঢাকা মেট্রেপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সদস্যরা যথাযথভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে জনসাধারণের অপ্রয়োজনে চলাচল নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যাদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি আছে তাদের পরিচয়পত্র চেক করা হচ্ছে। এর বাইরে যারা বের হচ্ছেন তাদের মুভমেন্ট পাসও চেক করছে পুলিশ। আইনের মধ্যে থেকে জরিমানা করা হচ্ছে আইন অমান্যকারীদের।


এই বিভাগের আরো খবর

নামাজের সময় সূচীঃ

সেহরির শেষ সময় - ভোর ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:০২ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
  • ৪:৩১ অপরাহ্ণ
  • ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
  • ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:২১ পূর্বাহ্ণ