• মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৪:০৭ অপরাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

শার্শায় সরকারি বাড়ি দখলে নিতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি

Avatar
নিউজ ডেস্কঃ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

যশোর: যশোর জেলা শার্শা উপজেলায় থানার পিছনে সরকারি কাছারি বাড়ির ৩৫ শতক জমি ৪০ বছর অবৈধভাবে দখলে রেখেছে স্থানীয় ভূমিদস‍্যু ফজলুর রহমানের চার ছেলে মো:কবির হোসেন, মো:জসিম উদ্দিন, মো:মনির হোসেন , মো:ইমাম হোসেন। সরকারি জমি জালিয়াতি করে নিজেদের নামে করে রাস্তা ও ড্রেন দখলে নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছে। ইত‍্যেমধ‍্যে রাস্তা ও ড্রেন ব‍্যবহার নিয়ে অনেককে মারধর করেছে।

জেলা উপজেলা প্রশাসনের দীর্ঘ তদন্তের পর জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় এ খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি উদ্ধারে জন‍্য জেলা প্রশাসক, যশোর মহোদয়ের কার্যালয়ের সিভিল স‍্যুটশাখা থেকে জিপি দপ্তর কে এল,এস,টি/দেওয়ানী মামলা করার জন‍্য ৩০/০৯/২০২০ তারিখে চিঠি দেয়। যার স্মরক-০৫.৪৪.৪১০০.০৩১.০৫.০০১.২০-২২০৫। ৩৫ শতক জমি যে সরকারি সম্পত্তি তার স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন সরকারি কৌঁসুলি কাজী বাহাউদ্দীন ইকবাল। একই সাথে তিনি সরকারের দীর্ঘ দিনের বেদখল হওয়া সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যপ্রক্রিয়া তুলে ধরে পরবর্তী ব‍্যবস্থা গ্রহণের জন‍্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। যাহার স্মরক-২৮ নং।

এখানে জিপি বাহাউদ্দীন ইকবাল জানান, চিঠি পেয়ে সরেজমিনে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তার সাথে দেখা করে সমস্ত কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন সরকারের কাছারি বাড়ির জমির জাল দলিল করা হয়েছে। শার্শা উপজেলার ৭২নং শার্শা মৌজার এস,এ ১২৫৫ নং দাগের যে ৩৫ শতক জমি রহিয়াছে উহা বাংলাদেশ সরকারের ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত জমি এবং ঐতিহ্য কাছারি বাড়ির জমি। উক্ত জমি আর, এস খতিয়ানে ২৩৩৬ নং দাগে স্থানীয় পর্যায়ের কথিত ব‍্যক্তি(জসিমসহ তার ভাইয়েরা)

তঞ্চকতা(ক্রটিপূর্ণ) সহকারে খাস খতিয়ানভুক্ত কাছারি বাড়ির জমি ব‍্যক্তি মালিকানায় আর এস খতিয়ানে রেকর্ড লিপিবদ্ধ করাইয়াছে। যার প্রমাণ হয় এখানে জালিয়াতি করা হয়েছে। তাছাড়া ঐ জমিতে একশ বছর আগের স্থানীয় মানুষের চলাচলের রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন রহিয়াছে। ঐ সমস্ত ব‍্যক্তিরা জমি দখলের পর হাজারো মানুষের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আইনের দৃষ্টিতে রাষ্টীয় আইন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ২০(এ) ধারা মতে কাছারি বাড়ি, জলমহাল,হাট-বাজার,নদী শ্রেণির জমি কোন অবস্থাতেই ব‍্যক্তি মালিকানায় থাকিবার যোগ্য নহে। তাই সরকারের তরফ হইতে স্থানীয় প্রশাসন এই সব সম্পত্তি ব‍্যক্তি মালিকায় রেকর্ড লিপিবদ্ধ হইলেও উল্লিখিত আইনের বিধান মতে মিস কেস রুজু করিয়া সরকারের দখলে নিতে করতে পারেন।

উল্লেখ্য যে, সরকারি এই জমি দখলকারিরা স্বত্বের দাবিতে শার্শা সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দাখিল করে যার নং-৮৯/৯৯। এখানে বাদীপক্ষ জসিমসহ মোট-৮জন ও বিবাদিপক্ষ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক,যশোর সহ অন‍্যান‍্যরা।মামলার শেষ দিকে ২০/০৭/২০০১ তারিখে একটি রায় হয় যে রায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আসে।ঐ রায়ে বাদিপক্ষ অসন্তুষ্ট হইয়া ০২/০৭/২০০১ তারিখের রায়ের আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্ট বিভাগে একটি সিভিল রিভিশন মামলা দাখিল করেন যাহা সি,আর-৮১/২০০২ নং। মামলাটি গত ১৪/১১/২০১৮ তারিখে রায় হয়।উক্ত রায়ে পক্ষ ভুক্ত বিবাদীদের অন্তভূক্তির বিষয় বিবেচনা করিয়া বিজ্ঞ শার্শা সহকারী জজ আদালতের ২০/০৭/২০০১ তারিখের রায়ের আদেশ বহাল রাখে এবং হাইকোর্টের মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

প্রকাশ থাকে যে, বিজ্ঞ শার্শা সহকারী জজ আদালতের ৮৯/৯৯ নং মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে, নতুন করে দেওয়ানি মামলা করবার প্রয়োজন নাই। তবে, রেকর্ড সংশোধনের জন্যে ল‍্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল আদালতে সরকারের পক্ষ থেকে যে মামলা করার সুযোগ আছে তা এখনি এমন পরিস্থিতি হয় নাই,বলে মত দেন জিপি।কারণ রেকর্ড প্রিন্ট কপিতে হলেও নোটিফিকেশন হয় নাই। ইত‍্যবৎসরে নালিশী জমিটি সার্ভেয়ার দ্বারা পরিদর্শন করাইয়া উক্ত জমির উপর অবৈধভাবে বসবাসকারী (দখলকারী)-দের উপর ব‍্যবস্থা গ্রহণের জন্য মিস কেস প্রস্তুত করিয়া নোটিস প্রদান সাপেক্ষে শুনানি করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে তারকাটার বেড়া দিয়া এই ৩৫ শতক জমি সরকারের দখলে নিয়ে প্রয়োজনে আশ্রয়ন প্রকল্পের জন্য সুপারিশ মালা প্রস্তুত করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।


এই বিভাগের আরো খবর

নামাজের সময় সূচীঃ

সেহরির শেষ সময় - ভোর ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
ইফতার শুরু - সন্ধ্যা ৬:২৬ অপরাহ্ণ
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:০১ অপরাহ্ণ
  • ৪:৩০ অপরাহ্ণ
  • ৬:২৬ অপরাহ্ণ
  • ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
  • ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ