জেন্ডার ও গ্রাম আদালত বিষয়ক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনতামূলক কর্মশালা

2

সিলেট:: শক্তিশালী, সক্রিয় ও জেন্ডার সংবেদনশীল গ্রাম আদালত গঠণের লক্ষ্যে “জেন্ডার ও গ্রাম আদালত বিষয়ক
সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সচেতনতামূলক” এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ মে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাওসন
সিলেটের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সরকার,
ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত বাংলাদেশে
গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিভিন্ন
পুলিশ, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার
প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের ৫৬ জন
প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী. এমদাদুল ইসলাম
বলেন, গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করতে হলে নারী-পুরুষ সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গবে।
গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহীতা হিসাবে এবং বিচারক প্যানেলে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি
করতে হলে গ্রামে গ্রামে এ সম্পর্কে আরও বেশী প্রচার প্রচারণা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের
জেলায় কর্মরত সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যকর ভূমিকা প্রযোজন। গ্রাম আদালত
সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা না থাকায় গ্রামে অনেক ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও সাধারণ মানুষ
তার প্রতিকার চাইতে থানা বা জেলা আদালতে আসেন যাতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। গ্রাম
আদালতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেবদের ভূমিকা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ, এ ক্ষেত্রে তাদের এগিয়ে আসতে হবে, আপনারা নারীবন্ধব পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে
নারীরা বিচারিক সেবা পেতে আপনাদের নিকট আসতে স্বাচ্ছন্দবোদ করে। সেবা সম্পর্কে স্থানীয়
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নিজেদের কর্মী ও নিজেদের কর্মসূচী এর মাধ্যমে প্রচার
করে সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
মতবিনিময় সভার সভাপতি মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, সিলেট বলেন,
গ্রাম আদালতে আবেদনকারী, প্রতিবাদী, সাক্ষীসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে।
আগের চেয়ে এখন গ্রাম আদালতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু এর পরিমাণ এখনো অনেক
কম। তিনি গ্রাম আদালতের সেবাসমূহের ওপর মানুষের আস্থা বৃদ্ধি এবং এর বিচারিক সুবিধার কথা
সিলেট জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত গ্রামীণ জনগণ বিশেষত নারীদের মাঝে পৌঁছে
দেবার জন্য উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। গ্রাম আদালতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যেমন সরকার
কাজ করে যাচ্ছে একই ভাবে গ্রাম আদালতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর মনিটরিং
বিদ্যমান আছে। ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নেও গ্রাম আদালতের পারফরমোন্স এর উপর
বিশেষ নম্বর রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ মোঃ মামুনুর রহমান ছিদ্দিকী, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, সিলেট বলেন, গ্রাম
আদালত আইন ও বিধিমালায় নারীর অংশগ্রহণের যে বিধান রাখা আছে আমরা যদি সেটুকুও সিশ্চিত
করতে পারি অর্থাৎ ”গ্রাম আদালতের নারী ও শিশু স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বিচারক
প্যানিলে একজন নারী প্রতিনিধি মনোয়ন করতে হবে” তাহলেই গ্রাম আদালতে নারীর অংশগ্রহণ
অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম পর্যায়ে ছোটো খাটো বিরোধ থেকেই বড় ধরনের
সহিংসতা তৈরি হয়, যা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সহজেই নিষ্পত্তি করা যায়। দরিদ্র ও প্রান্তিক
জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিস কাজকরে যাচ্ছে, ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন
লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি তাই গ্রাম আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত মামলার ক্ষেত্রে তারা দরিদ্র ও
প্রান্তিক আবেদনকারীকে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে রেফার করতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রাম আদালত প্রশিক্ষণ পুলের সদস্য সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (জালালাবাদ
থানা), সিলেট মতিয়ার রহমান বলেন, প্রান্তিক এলাকার জনগণ বিশেষ করে দরিদ্র নারী ও জনগোষ্ঠীকে
কম সময়ে ও কম খরচে ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ এর সঠিক বাস্তবায়নের
মাধ্যমে গ্রাম আদালতকে কর্যকর করতে হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার
সুযোগ রয়েছে তবে সেজন্য এ আইনের কিছু কিছু বিষয়ে সংশোধনীর প্রয়োজন আছে যেমন
গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভূক্ত মামলা থানায় গ্রহণ নাকরে গ্রাম আদালতে প্ররেণ ইত্যাদি।
মোঃ আলাউদ্দিন, উপপরিচালক, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সিলেট বলেন, আমরা যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ
চলাকালে গ্রাম আদালত সেবা সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের জানানোর মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে
পারবো বলে আশা করি।
আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিয়ানীবাজার এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা, সভাপতি
সিলেট প্রেস ক্লাব এবং সিলেট জেলা প্রেস ক্লাব, সিলটিভি সিলেটের প্রধান সম্পাদক আল
আজাদ, কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, চেয়ারম্যান, বোয়ালজুর ইউপি, বালাগঞ্জ, চেয়ারম্যান, মোল্লাপুর
ইউপি, বিয়ানীবাজার, চেয়ারম্যান, চারখাই ইউপি, বিয়ানীবাজার, চেয়ারম্যান, লামাকাজী ইউপি,

বিশ্বনাথ প্রমুখ। প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস এন্ড ট্রাস্ট (ব্লাস্ট),
আইনজীবি সমিতি, ইউনিসেফ সিলেটের প্রতিনিধিগণ গ্রাম আদালত সেবা সম্পর্কে প্রচারে
ব্যাপক সহায়তার কথা পুনঃব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি-এর পক্ষে বক্তব্য রাখেন জনাব কামরুন্নেসা নাজলী, জেন্ডার স্পেশালিস্ট, এবং
খন্দকার রবিউল আউয়াল নাসিম, ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প
(২য় পর্যায়), ইউএনডিপি, সিলেট।