বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধের জন্য কোম্পানীগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের ইউএনও বরাবর দরখাস্ত

11

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধিঃঃ সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের উপর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাক মালিক সমিতির নামে চাঁদাবাজি এবং গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ করার জন্য কোম্পানীগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ইউএনও বরাবর দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে।

৪ ফেব্রোয়ারী (মঙ্গলবার) কোম্পানীগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল এর স্বাক্ষরিত দরখাস্তে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের উপর রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাক মালিক সমিতির নামে চাঁদাবাজি এবং গাড়ি পার্কিং এর কারণে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি এবং প্রাণহানির মতো বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তার মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা উত্তোলন ও রাস্তার উপর গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে দূর্ঘটনার হার আরো বাড়তে থাকবে।
উল্লেখ্য, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক সাড়ে ৭শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পথে। এই সড়কে এখনো টুল বসানো হয়নি, কিন্তু ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাক মালিক সমিতির নামে রাস্তায় চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তৈমুন নগর ভাংতি ব্রীজ এবং পাড়–য়া ব্রীজের মধ্যখানে ও পাড়–য়া শাকেরা নামক স্থানে লাল পতাকা হাতে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ট্রাক থামিয়ে ২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়। প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় হলেও এই টাকা কোথায় যায় তার কোন হদিস মিলেনা। শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা আদায় করা হলেও প্রকৃত পক্ষে কেমন শ্রমিকের উন্নয়নে ব্যবহার হচ্ছে তা কেউ জানে না। রাস্তার মাঝখানে দাড়িয়ে ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করার কারনে এই জায়গায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

শুধু তাই নয় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে চাঁদা আদায় কারীদের কারনে প্রায়ই হতাহতের মতো বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটছে। গত ৪ মাস আগে কুদরত উল্লাহ নামের এক পাথর ব্যবসায়ী পাড়–য়া ব্রীজের উপর ট্রাক চাপায় নিহত হন। এর আগে একই স্থানে পাড়–য়া কালাসাদকের মিরাশ মিয়ার ছেলে সুর্জাত মিয়াও ট্রাক চাপায় নিহত হয়। এতসব দূর্ঘটনার পরেও প্রসাশন এইদিকে নজর দিচ্ছে না। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাহফুজ মিয়ার নেতৃত্বে স্থানীয় আশিক মিয়াসহ ৭/৮ জন ৫০০ টাকা রোজে এই চাঁদা আদায় করে থাকেন। সকাল ৫টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ফুট প্রতি ১টাকা করে নেওয়া হলেও সকাল ১০টার পর তা নেমে আসে গাড়ি প্রতি ২০/৫০ টাকায়। আবার বিকাল ৫টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত সেই আগের নিয়মে ফুট প্রতি ১টাকা করে চাঁদা দিতে হয়।

এদিকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ রোডের গাড়ি না হলে সেই গাড়ি গুলোকে চাঁদা দিতে হয় ৭০০/৮০০ টাকা পর্যন্ত। কোন ট্রাক ড্রাইভার চাঁদা না দিয়ে যেতে চাইলে মোটরসাইকেলে তাড়া করে তার কাছ থেকে দ্বি-গুনেরও বেশী চাঁদা আদায় করা হয়। আর এই টাকা দিতে কেউ অস্বীকার করলে গাড়ি আটকিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয়। গত নভেম্বর মাসে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় শাহ আরফিন বাজারের এক ব্যবসায়ীর পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকিয়ে ড্রাইভারের কছে থাকা ২১ হাজার টাকা ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এই চাঁদাবাজ চক্র।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এনাম আহমদের সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন, “এই চাঁদার বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। সম্পূর্ণ সেক্রেটারি মাহফুজ আহমদ এর নিয়ন্ত্রনে চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে”।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য বলেন, আমি এই দরখাস্তের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি’র কাছে প্রেরণ করেছি। খুব তাড়াতাড়ি আমরা এদের বিরুদ্ধে একশনে যাব। এর আগে আমি মাইকিং করিয়ে রাস্তার উপর গাড়ি পার্কিং করতে নিষেধ করিয়েছি। আর ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাক মালিক সমিতিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে টাকা উত্তোলন করতে নিষেধ করা হয়েছিল।