বড়লেখায় আতঙ্কে বিএনপির নেতাকর্মীরা

4

আজকের কাগজ : মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে তাদের আতঙ্ক নিয়ে দলের প্রার্থী মিঠুর পক্ষে প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। গ্রেফতার এড়াতে অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন।

গত বুধবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার অভিযোগে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬২ নেতাকর্মীর নামোল্লখ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট শতাধিক নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে। ইতিপূর্বে উপজেলা বিএনপির সভাপতিসহ ১২ নেতাকর্মীকে এসব মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ কর্মীরা ও প্রশাসন প্রতিনিয়ত ধানের শীষের কর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে বিএনপি (ঐক্যফ্রন্ট) মনোনিত প্রার্থী নাসির উদ্দিন মিঠু অভিযোগ করেছেন।

এব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানিয়েছেন।

গত বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) জুড়ী কলেজ রোডস্থ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ডিসেম্বর উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক জামাল আহমদ কাঠালতলী বাজারে নৌকার প্রচার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক আব্দুল হাফিজ, দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, বিএনপির নেতা সাহাব উদ্দিনসহ ৮ নেতাকর্মীর নামোল্লেখ ও আরো ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলার এজাহার নামীয় ৮ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে উপজেলার রতুলি বাজারে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হুইপ মো. শাহাব উদ্দিনের নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় রাতেই দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ফয়জুর রহমান বিএনপির ৪১ জনের নামোল্লেখ ও আরো ২৫ জন নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রহিম বক্ত মুসা ও শাহীন আহমদ নামে বিএনপির এক নেতাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে একই (১৯ ডিসেম্বর) রাতে উপজেলার বর্র্ণি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপির ১২ জনের নামোল্লেখ ও আরো ৩০-৩৫ নেতাকর্মীকে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি মামলা করা হয়। এ মামলায় হেলাল উদ্দিন ও ইসলাম উদ্দিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

এবিষয়ে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সহিদ খান শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রেফতার আতঙ্কের মধ্য দিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপির উপজেলা সভাপতি আব্দুল হাফিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যেটা বড়লেখার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে কোনোদিন উপজেলা সভাপতিকে এভাবে গ্রেফতার করা হয়নি। অনেকেই গ্রেফতার আতঙ্কে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

অন্যদিকে পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে যেটা বুঝায় আমরা তার কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। তবে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা নির্বাচনী মাঠে থাকবো এবং ৩০ ডিসেম্বর বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো।’

এব্যাপারে জানতে চাইলে বড়লেখা থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘পুলিশ কাউকে অযথা হয়রানি করছে না। বাড়িতে যাওয়ার কথাগুলো ঠিক নয়। শুধুমাত্র যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদেরকে গ্রেফতার করতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’