পা দিয়ে লিখে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে মানিক

1

অনলাইন ডেস্কঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকলেও সুস্থ ও স্বাভাবিক অন্য শিক্ষার্থীর মতই পাঁ দিয়ে লিখে চলতি জুনিয়ার স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা অংশ নিচ্ছেন মানিক রহমান।

পাঁ দিয়ে লিখেও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় তার হাতের লেখা মাধুর্য্যপূর্ণ। এই শারীরিক প্রতিবন্ধী মানিক রহমানের বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামে। তার বাবা মিজানুর রহমান একজন ক্ষুদ্র ঔষধ ব্যবসায়ী। বাবা-মায়ের বড় ছেলে মানিক রহমান। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সে বড় হয়ে উঠে। তার দুটো হাত না থাকলেও পড়ালেখা থেকে কখনও পিছিয়ে পড়েনি এই লড়াকু সৈনিক মানিক। তাকে কঠোর পরিশ্রম করা শিখিয়েছেন তার পরিবার। শুধু যে দুই পাঁ দিয়ে লিখে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন তা না ।
মানিক রহমানের দুটো হাত না থাকলেও সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়ের মতোই পাঁ দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধ-বান্ধবদের সাথে মোবাইলে কথা বলে। শুধু পাঁ দিয়ে মোবাইলে কথা বলেই শেষ নয়। সে বাড়ীতে পাঁ দিয়েই কম্পিউটার টাইপ, ইন্টানেট ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারদর্শী। মানিক ২০১৬ সালে জছিমিঞা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পায়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় ফুলবাড়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (পাইলট) ও ফুলবাড়ী (কুড়ি)-৬৬৮ নং কেন্দ্রের ৬ নং কক্ষে সে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। মানিক ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। পরীক্ষা রোল নং ৬১৮০১৩।

মানিক রহমান বলেন, আমার দুটো হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে পিইসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছি। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন যেন জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস পাই। আরও বলেন, এসএসসি ও এইচ এস সি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারি এবং ভবিষ্যতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রতিবন্ধী মানিকের বাবা মিজানুর রহমান জানান, আমার দুই ছেলে । মানিক বড়। ছোট ছেলে মাহীম ২য় শ্রেণীতে পড়ে। বড় ছেলে মানিক প্রতিবন্ধী এটা আমরা মনে করি না। জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও ছোট থেকে আমার পরিবার ও আমি তাকে পাঁ দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। এজন্য আমার স্ত্রী মরিয়ম বেগমের অবদানটাই অনেক বেশি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের চেয়েও মানিক পিএসসিতে ভাল রেজান্ট করেছে। এটা আমাদের গর্ব। সবাই আমার ছেলেটার জন্য দোয়া করবেন সে যেন সুস্থ সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে পারে এবং তার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।
ফুলবাড়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় (পাইলট) স্কুলের কেন্দ্র কানাই লাল সেন জানান, মানিক রহমান প্রতিবন্ধী হয়েও অন্য শিক্ষার্থীদের মতই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। বেঞ্চে বসে পরীক্ষা অসুবিধা হওয়ায় তার চন্য চৌকিতে বসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বাড়তি ৩০ মিনিট দেওয়াসহ সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছি। তিনি আরও জানান, জন্ম থেকেই তার দুটো হাত না থাকলেও পাঁ দিয়ে লিখে সুস্থ ও স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের চেয়ে পড়ালেখা ও লেখার ধরন একেবারে আলাদা। পাঁ দিয়ে লিখে কিভাবে এত সুন্দর লেখা হয় এটা খুবেই অদ্ভুত ব্যাপার। আমি মানিক রহমানের জন্য মঙ্গল কামনা করছি। সে যেন বাবা-মা ও তার স্বপ্ন পূরণ করে আত্মনির্ভরশীল হয়।

পিবিএ/এমআই/এমআর