ভিসির বাসার সামনে প্রতিবাদী কনসার্ট

3

অনলাইন ডেস্কঃজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলার পর আন্দোলন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যায় প্রশাসন। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে আবাসিক হল বন্ধ ও ক্যাম্পাসে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তবে এসব উপেক্ষা করে প্রতিবাদী কনসার্ট করছে আন্দোলনকারীরা।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭ টায় উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই প্রতিবাদী কনসার্টটি করেন তারা।

জাবি ভিসির বাসার সামনে প্রতিবাদী কনসার্ট

এ সময় প্রায় শতাধিক পুলিশ উপাচার্যের রক্ষার স্বার্থে আন্দোলনকারীদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। এর আগে বেলা ১১টা থেকে পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকে। দুপুর ১ টার দিকে পুরাতন রেজিস্ট্রার এর সামনে থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে আবার পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে গিয়ে সংহতি সমাবেশ করেন আন্দোলনকারীরা।

সমাবেশে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, গতকাল শিক্ষা উপমন্ত্রী যে কথা বলেছেন সেই কথার সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি। উনি আমাদের অথ্যাৎ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রমাণ সহকারে লিখিত অভিযোগ করতে বলেছেন। আমরা তো বিষয়টি প্রমাণ করতে আসেনি, আমরা অভিযোগ তুলেছি। এখন তদন্ত করে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদের।

তিনি আরও বলেন, তদন্তে যদি উপাচার্য নির্দোষ হয়, তখন কোনো কথা হবে না। কিন্তু এটা প্রমাণ করার দায়িত্ব যখন কেউ নিচ্ছেন না তখনই আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

অপরদিকে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীদের শাস্তি পেতে হবে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যকে আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নজর দিয়েছেন বলে তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও চায় আনীত অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে চুড়ান্ত সমাধান হোক।

এদিকে প্রধামন্ত্রীর বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যপন্থী এবং উপাচার্য বিরোধী সকলে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সাথে তদন্তেরও দাবি সকলের।

বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের পর সন্ধ্যায় উপাচার্যপন্থী সংগঠন ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’এর আহ্বায়ক পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক এ এ মামুন বলেন, যতোক্ষণ পর্যন্ত উপাচার্যের দুর্নীতির বিষয়টি প্রমাণিত না হবে ততোক্ষণ পর্যন্ত আমরা তার সঙ্গে আছি। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তিনি দুর্নীতি করেননি। আমরা চাই আনীত অভিযোগের তদন্ত হোক। উপাচার্যও চান তদন্ত হোক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রীর প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন। সরকার যেহেতু এই অভিযোগের বিষয়টি দেখছেন সেখানে এ নিয়ে মন্তব্য করবো না।

বিএনএনিউজ২৪.কম/শাকিল,ফয়সাল, এহক।