জেলার খবর

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর শ্যামলী এলাকা হতে জীনের বাদশা, বিকাশ প্রতারক ও ভূয়া সরকারী নিয়োগদাতাসহ প্রতারক চক্রের ০৩ (তিন) জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

অপরাধ ও দুর্নীতিঃঃ র‌্যাবের কাছে বেশ কিছু জায়গা থেকে এই ধরনের প্রতারণার কিছু তথ্য আসার পর র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ দল বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে এস এম রেফাত জামিল (৩৩) গত ২ মে ২০১৯খ্রিঃ মোহাম্মদপুর থানাধীন র‌্যাব-২, অধিনায়ক বরাবর এসে অভিযোগ করেন যে, গত ০১/০৫/২০১৯ইং দিবাগত রাত্র ১১.০০ ঘটিকার সময় মোবাইলে ফোন করে আমার বন্ধু রাশেদুল ইসলাম পরিচয় দিয়ে এবং বলে যে তার মা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গিয়াছে। উক্ত সংবাদটি আমাদের অন্যান্য বন্ধু সাইফুল, সেলিম জাহান ও শামসুজ্জোহাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করে। পরবর্তীতে ০২/০৫/২০১৯ ইং রাত্র অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার সময় আমাদের বন্ধু রাশেদুল ইসলাম পরিচয় নামধারী আবার আমাকে ফোন করে জানায় যে, এই মূহূর্তে তার মায়ের লাশ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এ্যাম্বুলেন্স যোগে বাড়ী নিয়ে যেতে হবে তাই কিছু টাকা প্রয়োজন। যদি সম্ভব হয় খুব দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে। তখন আমি আমার অন্যান্য বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে সরল বিশ্বাসে আমাদের বন্ধু রাশেদুল ইসলামের মা মারা যাওয়ায় ডিএমপি, ঢাকা শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগাঁরগাও তালতলাস্থ সমবায় জেনারেল ষ্টোর নামক বিকাশের দোকান হতে বিকাশে টাকা প্রেরণ করি। কিছুক্ষণ পর উক্ত রাশেদুল ইসলাম আমার অপর বন্ধু মোঃ সাইফুল ইসলামকে একই ভাবে ফোন করে রাশেদ এর মায়ের মৃত্যুর কথা বলে তার নিকট হতে মোট ২০,০০০/-টাকা বিকাশের মাধ্যমে নেয়। পরবর্তীতে আমার প্রকৃত বন্ধু রাশেদুল এর সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় যে, তার মা মারা যায়নি এবং ঘটনাটি মিথ্যা ও এটি একটি প্রতারক চক্রের কাজ। যারা সাধারন মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারনা করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ প্রেক্ষিতে, উক্ত ঘটনা জানার পর র‌্যাব-২ এর অধিনায়েক এর নিদেশে ও সিপিসি-৩ কম্পানি কমান্ডারের নেতীত্বে একটি বিশেষ আভিযানিক দল প্রতারণার রহস্য উম্মোচন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু করে। আভিযানিক দলটি প্রতারকদের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারীর মাধ্যমে ব্যাপক অনুসন্ধান করে এবং অভিযোগকারীর সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে আভিযানিক দলটি জানতে পারে যে, প্রতারক চক্রটি ডিএমপি, ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন ২৪ শ্যামলী বিপনী বিতান, মিরপুর রোডস্থ আকিব ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ভিতরে (যাহা শ্যামলী স্কয়ার শপিংমল এর বিপরীত পার্শ্বে) অবস্থান করছে।

উক্ত সংবাদ এর সত্যতা যাচায়ে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় ডিএমপি, ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন ২৪ শ্যামলী বিপনী বিতান, মিরপুর রোডস্থ আকিব ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ভিতরে (যা শ্যামলী স্কয়ার শপিংমল এর বিপরীত পার্শ্বে) অভিযান পরিচালনা কালে আসামী ১। মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৩), ২। মোঃ রাকিবুজ্জামান চৌধুরী (২৮), ও ৩। মোঃ মাহফুজ চৌধুরী (২৬)’দের আটক করে। আটককৃত আসামীদের প্রতারনার ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তাদের কাজ হলো ফাঁদ পেতে, বিভ্রান্ত করে, কখনো কখনো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আইডি হ্যাক করে অনেকটা জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেয়া। ধৃত আসামীদেরকে পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসাবাদে মাপুজ @ দ্বীপ ও রাকিব জানায়, সাইফুল নীলফামারি এলাকায় জ¦ীনের বাদশা নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ৮/৯ টি ফৌজদারী মামলা রয়েছে এবং সে বেশ ক’বার জেল খেটেছে। তার কাজ ও নেশাই হল প্রতারণা করা। ধৃত সাইফুল ও মাহফুজ @ দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, বিভিন্ন লোকের নিকট মোবাইল ফোনে ফোন করে তাদের বন্ধু পরিচয় দিয়ে কখনও “মা মারা গিয়েছে/কখনো বাবা মারা গিয়েছে” কখনও “জ্বীনের বাদশা” কখনও সরকারী কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। দ্বীপ জানায়, সাইফুল @ জ¦ীনের বাদশার পরিচিত হ্যাকার আছে যিনি বা যারা বিভিন্ন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আইডি হ্যাক করে সাইফুলকে জানালে সাইফুল সেসব হ্যাক হওয়া আইডি ধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইডি ফেরত দেয়ার শর্তে টাকা গ্রহণ করে। সেই টাকা আসামী রাকিবুজ্জামান এর বিকাশ দোকান হতে উত্তোলন করে তাদের মধ্যে ভাগ বণ্টন করে।

তারা ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার সত্যতা স্বীকার করে। তারা জানায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ তারা বিভিন্ন কৌশলে অনেক সাধারন মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে, মিথ্যা আশ^াস স্থাপন, সরকারী কর্মচারীর ছদ্মবেশ ধারন, জ¦ীনের বাদশা নামে এবং প্রতারনা করে নিরীহ মানুষদের প্রতারিত করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

Show More