Uncategorizedএক্সক্লুসিভ খবরজাতীয়বাংলাদেশসিলেট

রাজুর ভালোবাসায় অবাক প্রধানমন্ত্রীও !

আজকের কাগজ ডেস্ক : জগতে ভালবাসার কত রকম ফের! সন্তানের প্রতি মা-বাবার অকৃত্রিম ভালবাসা। মা-বাবার প্রতি সন্তানের ভালবাসা কর্তব্যের, মমত্বের। প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা, পরস্পরের প্রতি ভাল লাগা, টান থেকে।

এমনি কতশত অজানা ভালবাসা মানুষ করেছে মহান। ধ্বংসস্তূপ থেকে অনেকে পেয়েছে পথের দিশা। কিন্তু, বেকার রাজু আহমেদের এই ভালবাসা রীতিমত ঈর্ষা জাগানিয়া! না আছে রক্তের বন্ধন, না হয়েছে তার সঙ্গে আগে দেখা। তারপরও তিনি তাকে ভালবাসেন। টান অনুভবন করেন। এই ভালবাসা বিনি সুঁতোয় বুনা মালা, যুগ যুগান্তরের বন্ধন। যেমন: মা যত্নে আগলে রাখে তার হৃদয়ছেড়া ধনকে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রতি রাজু আহমেদ নামে এক বেকার যুবকের এমন ভালবাসা ফুটে উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকনের দেয়া ফেসবুক পোস্টে।

সোমবার রাতে তিনি ‘এক বেকার যুবকের ভালোবাসার গল্প…’ শিরোনামে নিজের ফেসবুকে পোস্টটি দেন। যেখানে রং লেগে বিকৃত হয়ে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর মুখকে যত্নে পরিষ্কার করার ঘটনায় চা বিক্রেতার ছেলে রাজু আহমেদের অন্তরের টান তুলে ধরা হয়েছে। পরিবর্তন ডটকমের বানান রীতিসহ আশরাফুল আলম খোকনের পোস্টটি নিচে দেয়া হলো—

রাজু আহমেদ। সম্প্রতি তার ভালোবাসার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে ইচ্ছাকৃত লাগানো রং তিনি টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সন্দেহবশত গাজীপুর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী সরকার ভিডিও করে রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কিন্তু, রাজু জানান, তিনি টিস্যু দিয়ে নেত্রীর বিকৃত ছবি পরিষ্কার করছিলেন। এতে মেহেদী বিব্রত হন; নিজের ভুল বুঝতে পারেন। পরে তিনি ফেসবুকে ভিডিওটি আপলোড করেন।

এক ওয়াল, দুই ওয়াল ঘুরে ভিডিওটি ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওটি সাজানো কিনা তা তদন্ত শুরু হয়। তখন বেরিয়ে আসে চরম বাস্তবতা আর ভালবাসার এক গল্পের ইতিহাস।

রাজুর বাবা পেশায় একজন চা বিক্রেতা। মানুষের সহযোগিতায় রাজু লেখাপড়া করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়। এরপর উত্তরায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটি-তে ভর্তি হন। রাজুর পরিবারের কথা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি চাকরি খুঁজতে থাকেন। কিন্তু, চাকরি আর হয় না।

গত মাসে আয়কর মেলা উপলক্ষ্যে গাজীপুরে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামের সামনে প্লা-কার্ড ও ফেস্টুন লাগানো হয়। যেখানে একটি ছবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখে ইচ্ছেকৃতভাবে লাল রং লাগিয়ে দেয়া হয়। রাজু সেটি দেখে আপন মনে রং মুছতে থাকেন। এরপর তৈরি হয় ইতিহাস।

ফেসবুকের কল্যাণে তরুণদের কাছে রাজু আহমেদ এখন পরিচিত নাম। বন্ধুরা অনেকেই এখন তার সঙ্গে ছবি তুলতে গর্ববোধ করেন। গত ১৪ ডিসেম্বর গণভবনে ইশতেহার কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য দীপক কুমার বনিক দীপু প্রধানমন্ত্রীকে রাজুর ভালবাসার ভিডিওটি দেখান। প্রধানমন্ত্রী দেখে অবাক হন এবং রাজুর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

সেদিন রাতে ইশতেহার টিমের এক সদস্য এবং যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার নাজমুল হোসেন ফেসবুকে যুবকটির সন্ধান চাই-সংক্রান্ত পোস্ট দেন। সেই সাংবাদিকের বন্ধু গাজীপুরের একটি গার্মেন্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাজুর সন্ধান দেন। এরপর রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকায় আসতে বলেন আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান রাজু আহমেদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেদিনের ঘটনা শুনে বিস্মিত হন। তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এরপর রাজুকে ফার্মার্স ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর আপ্লুত রাজু। তিনি মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর ভালবাসায় বিস্মিত।

রাজু জানান, এদেশের তরুণদের মনের কথা বুঝতে পেরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কার করেছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের পক্ষে নৌকায় ভোট চেয়েছেন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published.