পদত্যাগের কোন সম্ভাবনা নেই – বিএনপির ৫ সিনিয়র নেতা

অনলাইন ডেস্কঃ পরপর দুই জ্যেষ্ঠ নেতার পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয় যে বিএনপির আরও অন্তত ৫-৭ নেতা দল ছাড়ছেন। এদের মধ্যে আছেন ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া আরেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান দলে স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ না পেয়ে হাইকমান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ আছেন। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা না হলে তিনিও পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

তবে পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রায় সবাই। এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আরও অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। এর পর আমি নিজে থেকে অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই বলেছেন ‘এটি ভুয়া খবর।’

দলের মধ্যে যে ক্ষোভ বিরাজ করছে তা কীভাবে দূর করা সম্ভব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষোভ দূর করা সম্ভব নয়; ক্ষোভের কারণ দূর করতে হবে।

সম্প্রতি এক মামলায় হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তিনি আদালত থেকে জামিনেও মুক্ত হন। এর পর এক অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করে বলেন, রিজভী (বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী) ছাড়া কেউ তার অথবা তার পরিবারের খোঁজ নেননি। দলের নেতাদের সহমর্মিতাবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিএনপি ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে দলে আছি, সে দল ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর পদত্যাগের বিষয়ে বলেন, ‘এটা একটা ভিত্তিহীন খবর, আমি দল ছাড়ছি না। এ নিয়ে কোনো মিটিংয়ে অংশ নেইনি।’

বিএনপি পোড় খাওয়া নেতাদের একজন আবদুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রাম বিএনপির সবচেয়ে সিনিয়র নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাকে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়নি। দুই দুবার কাউন্সিলে চট্টগ্রাম থেকে দুই নেতাকে (সালাউদ্দিন কাদের ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী) স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে যারা একসময় অন্য দল করতেন। তারা রাজনীতিতেও নোমানের জুনিয়র। এ কারণে নোমান ক্ষুব্ধ।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে রাজপথে দৃশ্যমান আন্দোলন কর্মসূচি না দেয়া, খালেদা জিয়াকে ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ‘অকারণে’ মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়া ও দল পুনর্গঠনসহ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিনিয়র নেতাদের অবজ্ঞা, সম্প্রতি অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে দুই নেতাকে স্থায়ী কমিটিতে নিয়োগ দেয়া নিয়ে মান অভিমান চলছে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে। এসব ক্ষোভের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা ও মামলা-হামলা থেকে রক্ষা পেতেও কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিগত কয়েক বছরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইনাম আহমেদ চৌধুরীর পর মঙ্গলবার বিএনপি ছাড়েন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান। মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের কেউ প্রথমবারের মতো দল ছাড়লেন।

তিনি দলের সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বরাবর লেখা চিঠি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সাবেক এই সেনাপ্রধান বুধবার রাতে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এর কিছুক্ষণ পরই তার স্ত্রী বলেন, দল থেকে পদত্যাগের বিষয়টি গুঞ্জন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি দলের সুসময়ে অনেকেই এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। নেতাকর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে খালেদা জিয়া যে সরকার গঠন করেছিলেন তখন অনেক নামিদামি নেতা আমাদের দলে এসেছেন। তাদের দেখে মনে হয়, দেশের এমন পরিস্থিতিতে এখন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে, আর সহ্য হচ্ছে না। সে কারণে তারা প্রস্থান করতে চান। দুই-একজন দল ছাড়লে বিচলিত হওয়ার কিছুই নেই।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম, একটি বটগাছ। ক্লান্ত শরীর নিয়ে মানুষ এখানে আসবে বিশ্রাম নেবে, পিপাসা মেটানোর পর আবার চলে যাবে- এটাই স্বাভাবিক। এদের বেশি গুরুত্ব দেয়ার দরকার মনে করে না বিএনপি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বারবার বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের আগে থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এখন আবার নতুন ষড়যন্ত্রের আভাস শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে কোনো কাজ হবে না। অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু কোনোভাবেই তা সফল হয়নি।

তিনি বলেন, যারা যাচ্ছেন তারা ক’দিন পর রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের নানামুখী চাপের কারণে কেউ কেউ পদত্যাগপত্র দিচ্ছেন। আমরা এসব পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না।

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির যৌথ নেতৃত্বে দলের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। এখানে তারেক রহমান এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। সেখানে কেউ যদি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ওপর অহেতুক দোষ চাপান সেটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

পিবিএ/জেডআই

সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছেঃ-

দেশের সকল জেলা উপজেলাইয় সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছে । আমাদের সাথে কাজ করতে সরাসরি যোগাযুগ করুন ০১৭১১০০০২১৪