ক্রীড়াঙ্গনের অস্থিরতা দেশের সামগ্রিক অবস্থার প্রতিফলন: ফখরুল

1
৩১অক্টোবর ,রাজনীতি: দেশের সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনে যে অস্থিরতা চলছে, সেটা দেশের সামগ্রিক অবস্থারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে এতে করে কাউকে কোনও জবাবদিহিতা করতে হচ্ছে না। আজ দেশের প্রত্যেকটা ক্রীড়া ফেডারেশনই মানি আর্নিংয়ে প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সব খেলার ক্লাবগুলো এখন অর্থ উপার্জনের পেছনে ছুটছে। সেটা আমরা অভিযানে দেখছি।প্রত্যেকটি ক্লাব ক্যাসিনো চালায়। এটা ক্রিকেট বোর্ড বা ফুটবল ফেডারেশন জানতো না। ক্রীড়ামন্ত্রী জানেন না? অর্থাৎ সরকারের কোনও শাসন নেই। তারা সব জায়গায় ব্যর্থ। দেশে কোনও সুশাসন নেই। এর ফলে এধরনের ঘটনা ঘটছে। সাকিব আল হাসানকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দেওয়া দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি সত্যিই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। সাকিব আমাদের দেশের ক্রিকেটের জন্য একজন প্রতিভাবান খেলোয়ার। এই খেলার সঙ্গে তিনি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা আশা করবো, এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। আশা করবো, ক্রিকেট অনুরাগী আমাদের আর এ ধরনের ব্যথা দেবেন না। তিনি আরও বলেন, আজকে যারা ক্রিকেটকে ভালোবাসেন তারা ব্যথিত। তারা একবছর সাকিবের খেলা দেখতে পারবেন না।ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম আছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, যে জুয়াড়ুদের কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আইসিসিরও সম্পর্ক থাকে। সাকিব একজন বিশ্বমানের অলরাউন্ডার। জানি না তার সঙ্গে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেছে নাকি। আশা করি, সাবিক তার পুরনো ফর্ম নিয়ে ফিরে আসবেন, দেশকে জয়ী করবেন। আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, বিপ্লব ও সংহিত দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সারাদেশে বিএনপির সব কার্যালয়ে সকাল ছয়টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১০টায় জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন দলের নেতাকর্মীরা। ওইদিন কোনও সভা সমাবেশ করা হবে কিনা তা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ফখরুল।বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির পাশাপাশি দলের অঙ্গ সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি আলোচনা সভা করবে। সেটি ৬ অথবা ৮ নভেম্বর করা হবে। আমাদের সভায় প্রস্তাব এসেছে সমাবেশ করার জন্য। বিষয়টি আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে পরে জানাবো। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিন বলে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই দিনটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ওইদিন যে বিপ্লব রচিত হয়েছিল, আজ তেমনি সময় এসেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আবারও বিপণ্ন হয়েছে। তিরি আরও বলেন, আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের সমুদ্র উপকূলে রাডার বসাচ্ছে প্রতিবেশি দেশ, কিন্তু আমরা এ বিষয়ে জনগণকে কিছুই বিস্তারিত বলতে পারছি না। বাণিজ্যের যে ভারসাম্য সেটা রক্ষা করা হচ্ছে না। এক কথায় আমরা পুরোপুরিভাবে নতজানু হয়ে গেছি এবং পরনির্ভরশীল হয়ে গেছি। বিশেষ করে ভারতে আমাদের দেশের যেসব মানুষ বসবাস করছেন, তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান যে সরকার আছে তারা এসব সমস্যা সমাধান করার জন্য যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার, সেটা করা হচ্ছে না।গত ২০ মাস ধরে খালেদা জিয়া অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি বলে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এখন অসুস্থ। অথচ তার স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে মিথ্যাচার করছে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক। তার কথা শুনে দেশবাসী উদ্বিগ্ন, তারা কি খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে চায়? জামিন হচ্ছে খালেদা জিয়ার ন্যায্য পাওনা বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার তার জামিনে বাধা দিচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে তাকে আটকে রাখার জন্য তাকে জামিন দিচ্ছে না। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ। ফোকাসবাংলা