চাকরকে নেতা না বানিয়ে, কর্মীর মূল্যায়ন দলের জন্য মঙ্গলজনক – ফেরদৌস সাকের

ফেরদৌস সাকের,মুক্তমত ডেস্কঃ নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তা নিয়ে বিএনপি এখন বাংলাদেশের সবচাইতে বড় রাজনৈতিক সংগঠন। এই জনসমর্থন বিএনপি অর্জনকারী না কি আওয়ামীলীগ বর্জনের ফল তা বিএনপিকেই বুঝতে হবে। জনসমর্থন আর জনপ্রিয়তা একই বস্তু নয় তা সহজেই অনুমেয়। চার দলীয় জোটের নির্বাচনে প্রায় শতকরা ৭০/৮০ ভাগ ভোট পেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পাঁচবছর পর রাজপথে আওয়ামীলীগের লাগি বৈঠাকে প্রতিহত করার জন্য লোকসমাগম ছিলোনা রাজপথে।

দলের নেতা কর্মীরা এখন প্রায়ই বলে থাকেন আওয়ামীলীগ সুষ্ট নির্বাচন দিলে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে? কিন্তু একবারও কি চিন্তা করেন না, আওয়ামীলীগ একটি রাজনৈতিক দল। এদেশে ক্ষমতায় থাকার লড়াইয়ে আওয়ামীলীগও সামিল, তারা কেন সুষ্ট নির্বাচন দেবে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসার জন্য? যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিলেন তখন কি আওয়ামীলীগকে থালাবাটি সহ ক্ষমতায় বসিয়েছে? যাদের আওয়ামীলীগ কিভাবে ক্ষমতাসীন হয়েছে সেই সম্পর্কে মোটামুটি ধারনা আছে তারা কখনওই বলবেন না সুষ্ট নির্বাচনের কথা বা দাবী করবেন না শতভাগ নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতার পালাবদল।

চারদলীয় জোট সরকারের সময় থেকেই সাংগঠনিক ভাবেই দূর্বল হতে থাকে বিএনপি। বিএনপির এই জোটের সময়ই জনাব তারেক রহমান দলের হাল ধরতে আগ্রহী হোন।তিনি তৃনমূল থেকে কাজ শুরু করেন কিন্তু দলের সিনিয়র একটি শ্রেণী শুরুতেই তারেক রহমানের বিপরীতে অবস্থান নেন। বিভিন্ন রকম যোগসাজশ করে ক্রসফায়ার নাটক সাজিয়ে ৬৪ জেলায় বিএনপির ৩৫৯ জন পোষ্টেড নেতাকর্মী ও নাম না জানা অনেকের সমাধী রচিত হয়। দলের নেতাকর্মীর ডাটাবেজ বিভিন্ন গোপনীয় সংস্থা এমনকি বিদেশীদের হাতে দিয়েদেন একটি চক্রান্তকারী মহল। ক্ষমতাসীন বিএনপির সময় এমপি মন্ত্রী কেন্দ্রিক সমাবেশ হলেও তারেক রহমানের “ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন” ছাড়া কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীই ছিলোনা বিএনপির। গনতান্ত্রীক ভাবে করতে পারেন নি মূল দলের কিংবা অঙ্গ-সংগঠনের কমিটি।

চৌধুরী পুত্র চৌধুরীই হয় যেমন তেমনি নেতার ভাই,পুত্র, বৌ এমনকি চাকরকেও নেতা মানতে অভ্যস্ত আমরা। মনোক্ষুন্ন হওয়ার অবকাশ নাই। ব্রিটিসের দাসত্বে দুইশত বছরের অভ্যস্ত জেনেটিক্স সহজে কি বদলায়। তাছাড়া নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করে দলে নিজের প্রতিধন্ধির সৃষ্টি করতে চান না কেউই। তাই নেতার পরিবারেই নেতার ভরসা, এই অভ্যস্ততা বিএনপি আওয়ামীলীগ সহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলেই। এই সুযোগে বিএনপি নেতাদের ড্রাইভার, মালী, ম্যানেজাররা এসেছেন দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে (নাম উল্লেখ করলে চাকরী যাবে)। নেতাদের এই সকল আচরনে যেমন বঞ্চিত হয়েছেন দলের সক্রিয় কর্মী তেমনি বেশীরভাগ জায়গায় হারিয়ে গেছে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। দলকে রেখেছেন নিজেদের করাতলে, জিম্মি হয়ে পড়েছে দলের কার্যক্রম। তাই বিএনপি এখন যেখানেই একটু সক্রিয় কার্যক্রম করতে চায় সেখানেই সিন্ডিকেটের ছোঁয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। সে হোক কেন্দ্রীয় বা তৃনমূলে।

এখন হোক আর একশত বছর পরে হোক, শৃঙ্খল ভাঙ্গতে কেউ না কেউ না কেউ জন্মাবেই। হয়তো তখন নেতৃত্ব বন্ঠিত হবে মেধার ভিত্তিতে। দলের নেতাদের নেতা করার আগে দুই থেকে তিন বছর ফলোআপে রাখা হবে। শ্রমিক দলে শিক্ষক আর পেশাজীবী দলে শ্রমিক কিংবা বাপের নেতা পুত্র এমন কমিটির রাজনীতি বন্ধ হবে।নেতা পরিবারের সৃষ্টি না হয়ে দেশে বিএনপি পরিবারের সৃষ্টি হবে। উড়ে এসে জুড়ে বসা কিংবা দলের পদবী নিয়ে দলের কর্মসূচীতে অনুপস্থিতি এমনকি দলের নেতার সমালোচনা করার অপরাজনীতি বন্ধ হবে। নেতার চাকর নেতা না হয়ে দলের মেধাবী সংগঠকরা নেতা হয়ে দলকে চাঙ্গা করবে। নেতাদের বড় ফটো পোষ্টার না হয়ে জিয়ার বড়ো ফটো দিয়ে পোষ্টার হবে। জনগন অন্তত নেতাদের নেতা পরিচিতি জিয়ার দল বিএনপির সৃষ্ট হিসাবে সহজেই বুঝবে। বিএনপিতে কোন কর্মী বা সমর্থক যে ফেলনা নয়, আবার কোন নেতাই অপরিহার্য নয় এই বিশ্বাসের সৃষ্টি হবে। ( আশায় রইলাম)।

সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছেঃ-

দেশের সকল জেলা উপজেলাইয় সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছে । আমাদের সাথে কাজ করতে সরাসরি যোগাযুগ করুন ০১৭১১০০০২১৪