কবে বিএনপি আন্দোলনে যাবে ?

1

আহমেদ ফেরদৌস সাকের, সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক,সিলেট জেলা ছাত্রদলঃ জনসমর্থন বাড়লেও প্রিয় দলে কমছে এক্টিভ কর্মীর সংখ্যা বার বার নেতা হচ্ছেন নেতৃত্ব দানের অযোগ্যরা। বাড়ছে অভিমান অভিযোগ, নিশ্চল হাজার হাজার ইউনিট।

বিএনপি কি শুধুই ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠনের রাজনীতি করবে? নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন কিংবা সরকারের লাগামহীন দূর্ণীতির বিরুদ্ধে কি কোন কর্মসূচী নেই এই দলের। দেশের মানুষের আশা ভরসার এই দল গণদাবী নিয়ে আন্দোলন করতে না পারলেও গ্রুপিং কিংবা কমিটি নিয়ে রাজপথে ঠিকই কামড়া কামড়ি করতে পারে। নিজেদের মধ্যে মারামারী করে নেতার পিঠে বার বার নেতা পদবী লাগিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন নেতার সংকটে এই দল। পাওয়ারফুল বুনিয়াদী নেতারা দলের দায়িত্ব নিয়েই বেমালুম বেখবর হয়ে যান দল গঠনের ক্ষেত্রে। আমার এই লেখাটা হয়তো অনেকের মনব্যথার কারন হতে পারে, তবে কাউকে খুশী বা দুঃখ দিতে আমার এই লেখা নয়। দলের একজন কর্মী হিসাবে লাখো কর্মীর মনের কথা বা অভিযোগ এই লেখা।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আন্দোলন, জনগনেরদাবী আদায়, রাজনৈতিক চর্চা সহ বিভিন্ন কর্মসূচী সম্বলিত দলের একটি নিজস্ব বাধ্যতামূলক ক্যলেন্ডার থাকা প্রয়োজন । যেই কেলেন্ডার অতিক্রম হওয়ার সাথে সাথেই অকার্যকর হবে অঙ্গ-সংগঠন এমনকি মূল দলের সকল কমিটি। নিয়ম রাখা হোক কর্মসূচী পালন না করলে কার্যকারিতা হারাবে কমটি। এমন কি অর্পিত দায়িত্বের শতকরা ৫০-৬০% পূরণে ব্যর্থ নেতাকে নেতৃত্ব বা দলের পদবী থেকে দূরে রাখা হোক নির্দিষ্ট একটি সময়। দলীয় কেলেন্ডার অনুযায়ী কিছু কর্মসূচী বাধ্যতামূলক করা হোক দলের সকল পর্যায়ের ইউনিট এমনকি কর্মীদের জন্য।

বর্তমানে দলের যে অবস্থা তাতে দেখা যায় ২/৩ জন দিয়ে একটি কমিটি দিলে ২/৪মাসেও তৃতীয় বা চতুর্থ জনের নাম প্রকাশ করতে পারেনা এই দলের নেতারা। অথচ ১৫ বছরের রাজপথে পরিক্ষিত হাজার হাজার কর্মী এই দলের। দলের বর্তমান কর্মীদের একজনকেও সুযোগ সুবিধা ভোগী কিংবা দালাল খেতাব দেওয়ার সুযোগ নেই, কারন গত এক যুগের নির্যাতন, নিপিড়ন আর আন্দোলনে অভ্যস্থ এমনকি দলের জন্য আজ অনেকেই নিঃস্ব। আর বর্তমান সময়ে এই দলের পোষ্ট পদবীর অর্থই হলো মামলার লিষ্ট,আওয়ামীলীগের হামলার টার্গেট কিংবা গুম বাহিনীর টার্গেট লিস্ট।

দলের হাইকমান্ড বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবেই চেষ্টা করেছেন দলটাকে একটা সুন্দর ধারাবাহীকতার মধ্যে নিয়ে আসতে কিন্তু সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে ১৯৯১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত দলটিতে কর্মী জট লেগেই আছে। একবারের নেতা বার বার নেতা হওয়া এই দলের এখন স্বাভাবিকতা, নতুন নেতার সৃষ্টি ১৯৯০ এর পর থেকে নেই বললেই চলে। আর যে বা যারা বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতা হয়েছেন বস্তুত তারা ১৯৯০ এর সৃষ্ট নেতাদের ছায়া নেতা হিসাবেই ছিলেন। তাই বর্তমানে এই দলকেই চলতে হয় ৯০ দশকের অনেক নেতার মর্জীর উপর ভিত্তি করেই। তাই প্রভাবশালী নেতার সৃষ্ট নতুন নেতাদের জবাবদিহিতা করতে হয়না দলের কোন সেক্টরেই। এমনকি সয়ং জিয়া পরিবারের কমিটমেন্ট বাস্তবায়ন হয়না শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে।

সিন্ডিকেইটের তৈরী এসকল নতুন নেতারা দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন অজুহাতে দলের সর্বোচ্চ কামান্ডিংএর বা গঠনতন্ত্রের বরখেলাপ করে বছরের পর বছর পদ পদবী আকড়ে বহাল তবিয়তে থাকেন। জেলা, উপজেলা পর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয়ে দেরী হওয়ার তাদের বহুল প্রচলিত কারন কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত, আন্দোলনে ব্যস্ত,কিংবা মামলায় পলাতক, সামনে রোজার মাস কিংবা ঈদ । এদের এই অবহেলার জন্য বছরের পর বছর রাজনীতি করে হাজারো কর্মী থাকেন পরিচয় হীন,লাখে লাখে কর্মী হতাশ হয়ে ছাড়েন রাজনীতি। কেন্দ্রীয় কোন কমিটি এখন পর্যন্ত দেশের সকল জেলায় কমিটি দিতে পেরেছে এমন নজির আমার জানা নাই। কিন্তু তারপরও এই দল চলতেছে এবং এই সময়ে দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল এবং দেশের মানুষের আশা ভরসা সবকিছুই এখন এই বিএনপিতেই।