জেলার খবর

পাহাড়ি ঢল ও টানাবৃষ্টিতে তাহিরপুর সীমান্ত সহ একাধিক স্থান প্লাবিত

আহম্মদ কবির,তাহিরপুরঃ সুনামগঞ্জে তাহিরপুর গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার নদ-নদীগুলোতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগলী এল,সি পয়েন্ট সহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন রাস্তাঘাট।অন্যদিকে বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানাযায় সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের আনোয়ারপুর ও শক্তিয়ারখলা এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী জনসাধারণ।
আজ শুকবার সকালে তাহিরপুর সীমান্তের বাগলী এল,সি পয়েন্টসহ কয়েকটি নিচু এলাকাও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি আর বন্যায় থমকে গেছে জনজীবন।
উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগলী এলাকার বাসিন্দা শামীম শিকদার বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্টান ও বিভিন্ন বসতভিটায় পানি উঠে যাওয়ায় এখানকার স্থানীয় জনসাধারণ কষ্টের সাথে জীবনবাজি যুদ্ধ করছে , এই পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ একান্ত কাম্য ।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানাযায় , বন্যার কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় , তাহিরপুর, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। পাহাড়ি ঢলের পানিতে তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাদাঘাট ও উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি ও বিদ্যালয়ের উঠানে পানি উঠতে শুরু করেছে দুটি ইউনিয়নে। কোথাও কোথাও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে পানিতে। পাহাড়ি ঢলে সীমান্ত সড়কের অনেকগুলো স্থান ভেঙে গেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌলী (পওর-১) আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া গণমাধ্যম কে জানান, সীমান্তের ওপারে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেই বৃষ্টির পানি তাহিরপুর সহ সুনামগঞ্জের নদ-নদী দিয়ে নেমে আসছে। এতে জেলার সুরমা, কংস, জাদুকাটা, সুমেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
তথ্যসুত্রে জানাযায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার পরিপ্রক্ষিতে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বন্যা মোকাবেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে দুর্গত মানুষকে সহযোগিতার জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে অবস্থানের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও দুর্যোগজনিত জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কন্ট্রোলরুমের ০৮৭১-৬১৩৭৫ নম্বরে যোগাযোগ করতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফরিদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণপূর্বক তালিকা তৈরির জন্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Show More