আজকের কাগজ

BANGLADESHI Latest Online News

পাবনায় থানাতে ধর্ষিতাকে ধর্ষকের সাথে বিয়ে:ওসিকে শোকজ

1 min read

আজকের কাগজ ডেস্কঃপাবনা সদরের দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল গ্রামে তিন সন্তানের এক জননীকে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়েরের পরদিন থানায় বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সোমবার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগকারীর সাথে অভিযুক্তকে থানা অভ্যন্তরে বিয়ের দেওয়ার ঘটনায় পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)ওবাইদুল হককে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নানা নাটকীয়তার পর সোমবার দুপুরে ধর্ষণের অভিযুক্ত রাসেলের বিরুদ্ধে থানাতে অভিযোগ দিয়েছেন ওই নারী। পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম সোমবার বিকেল ৫ টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) মো. ফিরোজ আহমেদকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। বাকিরা হলেন; কোর্ট ইন্সপেক্টর ও ডিআই-১। বিলম্বপ্রাপ্ত সূত্র থেকে জানা যায়, তিন সন্তানের জননী ওই নারীর বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের যশোদল গ্রামে। তার অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট তাকে তার বাড়িতে নিয়ে এক সহযোগীসহ পালা করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনার দুইদিন পর (৩১ আগস্ট) তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিনদিন আটকে রেখে সেখানেও ৪/৫ জন তাকে পালা করে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের অবগত করলে গেল ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ রাসেলকে প্রথমে আটক করে। এরপর অজ্ঞাত কারণে অভিযোগটি পুলিশ আমলে না নিয়ে অভিযুক্ত রাসেলের সাথে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানার ভিতরে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয় এমন অভিযোগ চাউর হয়ে উঠে। এদিকে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দৌলত আলী জানান, তার উপস্থিতিতেই এলাকা থেকে পাবনা সদর থানার এসআই একরামুল হক ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। দৌলত বলেন, পরে জানতে পেরেছি, আটককৃত রাসেলের সাথে ধর্ষণের অভিযোগকারীনীর বিয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগকারী গৃহবধূ বলেন, অভিযুক্ত রাসেলকে পুলিশ আটকের পর থানায় নিয়ে এসে ওসির নির্দেশে কাজী ডেকে থানার মধ্যেই আমাদের বিয়ে দিয়েছেন। আর অভিযুক্ত রাসেল বলেন, রিমান্ডের নেওয়ার ভয় দেখিয়ে পুলিশ জোরপূর্বক আমাকে বিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি নির্দোষ, আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে এমন দাবী রাসেলের। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় বলেন, প্রথম দিকে মেয়েটির কোন অভিযোগ ছিল না। উভয়পক্ষের পরিবারের সম্মতিতে রাসেলের সাথে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে থানার অভ্যন্তরে কোন বিয়ে হয়েছে কিনা এমন কোন তথ্য তার কাছে নেই। এদিকে, অভিযোগ না থাকার কথা বলা হলেও সোমবার দুপুরে রাসেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নারী এমন তথ্য জানিয়েছেন সদর থানার ওসি।