জেলার খবর

নোয়াখালীতে ৪৮ ঘন্টায় নবজাতকসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার

আনলাইন ডেস্কঃ নোয়াখালীতে ৪৮ ঘন্টায় নবজাতকসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর থানা পুলিশ জেলা শহর মাইজদী হাউজিং এস্টেট থেকে নবজাতকের লাশ, বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ বরাইচতল থেকে পিটিয়ে হত্যা করা যুবকের লাশ, কবিরহাট থানা পুলিশ সোনাপুর থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ ও সোনাইমুড়ী থানা পুলিশ মুকিল্লা থেকে বৃদ্ধর লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে মাইজদী হাউজিং স্ট্রেটের খালের মধ্যে এক নবজাতকের(৬ মাস) লাশ ভাসতে দেখে পথচারীরা। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নবজাতকের শরিরের বিভিন্ন অংশে পঁচে গেছে।

সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নবীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধারণা করা হচ্ছে গত ৮/১০ দিন আগে অজ্ঞাত কেউ নবজাতকের ভ্রুণটি বের করে এখানে ফেলে গেছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাকে সরকারী গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

শুক্রবার সকালে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের ছকিদার বাড়ি থেকে ফারজু আক্তার (১৫) নামের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ফারজু আক্তার ওই বাড়ির প্রবাসী ইউছুফের মেয়ে। প্রবাসী ইউছুফের দুই মেয়ের মধ্যে ফারজু ছোট ছিল।

মাদ্রাসায় লেখাপড়া করলেও প্রায় দুই বছর আগ থেকে পড়া লেখা বন্ধ করে দেয় ফারজু। তারপর থেকে সে বাড়ীতে থাকতো। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া শেষে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যায় সে। শুক্রবার সকালে তার কক্ষ থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে অবগত করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘরের কক্ষের দরজা ভেঙ্গে নিহতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

কবিরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাছান জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কি কারণে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে তা জানা যায়নি। ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বেগমগঞ্জ উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নে বারাইচতল গ্রামে ফয়েজ আহম্মদ (২৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ফয়েজ আহম্মদ একই গ্রামের জামাল পাটোয়ারীর ছেলে। ফয়েজ আনন্দ বাস সার্ভিসের হেলপার হিসেবে কাজ করত। শুক্রবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহতের পিতা জামাল পাটোয়ারীর অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফয়েজ আহম্মদ পাশ্ববর্তী মঞ্জুর বাড়ীতে গেলে মঞ্জু ও তার স্ত্রী সুরমা আক্তারসহ তাদের পরিবারের লোকজন ফয়েজকে পিটিয়ে জখম করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফয়েজের মৃত্যু হয়।
বেগমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন উর রশিদ জানান, নিহতের পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার সঠিক কারণ এখনও বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

একই সময় সোনাইমুড়ীর মুকিল্লা গ্রামে তুচ্চ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহিলার ঘুষিতে আবুল কালাম(৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তর্কের এক পর্যায় বৃদ্ধকে কালামকে মহিলা হালিমা আক্তার(৫০) স্বজোরে ঘুষি মারে। এতে বৃদ্ধ ঘুরে পড়ে গেলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুস সালাম জানান, পারিবারিক বিরোধে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র এই ঘটনাটি ঘটে। আমরা অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

পিবিএ/

Show More