জেলার খবর

তাহিরপুর হাওরপাড়ের কৃষক ধান বিক্রয় সুযোগ পেয়েও, স্লিপ বিক্রিতে ব্যাস্ত

তাহিরপুর প্রতিনিধিঃ উৎপাদনের চেয়ে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা কম থাকায়,তাহিরপুর উপজেলা সহ বিভিন্ন স্থানে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের উৎপাদিত ধান ক্রয়ের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ । কিন্তু লটারির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পেয়েও নিজেদের বিক্রয় করার মতো ধান না থাকায়, উপজেলার হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ ধান ক্রয়ের স্লিপ প্রাপ্তি ব্যক্তিরা,ফড়িয়াদের কাছে ২০০০থেকে ২৫০০টাকার মধ্যে ,ধান বিক্রির স্লিপ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।

এ ছাড়া যে কার্ডটি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষক ধান ক্রয়ের লটারিতে অংশগ্রহণ করেছে,সেটিও ত্রুটিপূর্ণ।যাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি নেই এবং যারা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত মৎস্যজীবী যাদের নামে রয়েছে সরকার অনুমোদিত মৎস্যজীবী কার্ড। এমন ব্যাক্তিদের কৃষিকার্ড করা হয়েছে।আর বর্তমানে যাদের ঘরে ধান নেই এমন কৃষকও লটারিতে বিজয়ী হয়েছেন।যার ফলে স্থানীয় দালাল ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা লটারিতে বিজয়ী ধান বিক্রয়ের স্লিপ ক্রয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে ।জানাযায় উপজেলার ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম হতে, যারা নামে মাত্র কার্ড দারী কৃষক তাদের কাছ হতে দালালদের মাধ্যমে চুক্তি সাপেক্ষে লটারিতে অংশগ্রহণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে কার্ড জমা দেন।

স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের অভিযোগ যদি কর্তৃপক্ষ যে সমস্ত কৃষকের বিক্রি করার মতো ধান রয়েছে তাদের নামের তালিকা করা হলে হয়তোবা আজ লটারির প্রয়োজন হতনা এবং আমরা সরকারের এই মহৎ সুযোগ সুবিধা হিতে বঞ্চিত হতাম না।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যসূত্রে জানাযায় চলতি বছরে উৎপাদনের চেয়ে সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা কম থাকায়।তাহিরপুর উপজেলা অভ্যন্তরীণ ধান ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি, লটারির মাধ্যমে ১৪শত ১৫মেঃটন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

ধান ক্রয়ের স্লিপ ক্রেতা সেজে অভিনব কৌশলে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের ধান বিক্রয়ের স্লিপ প্রাপ্তি মশ্রব আলীর ছেলে কবির মিয়ার সাথে, মোবাই ফোনে জানতে চাইলে উনি বলেন আমি আমার কার্ড বিক্রি করে দিয়েছি। এছাড়াও উনি বলেন পার্শ্ববর্তী জয়পুর গ্রামের নুরকালাম আর ১২-১৪টি স্লিপ ক্রয় করেছে।
একই ইউনিয়নের মন্দিয়াতা গ্রামের আলীরেজা মিয়ার ছেলে,নেছার মিয়া বলেন আমি চারটি ধান ক্রয়ের স্লিপ ক্রয় করেছি, আমার কিছু ধান বিক্রি করার জন্য।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মনোরন চন্দ্র দাস, দাবি করেন, যাঁরা প্রকৃত কৃষক, শুধু তাঁদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। ধান কেনার স্লিপ বিক্রি করছে এমন অভিযোগ তাদের কাছে কেউ বলেনি, যদি অভিযোগ থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, উৎপাদনের চেয়ে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা কম থাকায়,তাহিরপুর উপজেলায় ১৪শত ১৫মেঃটন ধান প্রকৃত কৃষকদের কাছ হতে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের উৎপাদিত ধান ক্রয়ের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে উপজেলা অভ্যন্তরীণ ধান ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি।
এবং লটারিতে বিজয়ী কৃষক তাদের ধান বিক্রয়ের প্রাপ্তি স্লিপ বিক্রি করছে এমন অভিযোগ আমরা জানি না, যদি অভিযোগ থাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ এর সাথে কথা বলতে, সরকারি মোবাইল নাম্বারে অনেকবার চেষ্টা করা হলেও মোবাইলটি বন্ধ থাকায় আলাপ করা সম্ভব হয়নি।

Show More