সড়কের পাশে গর্ত থেকে পাওয়া গেল নবজাতক শিশু

10

অনলাইন ডেস্কঃ ফজর নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন মুসুল্লিরা। সড়কের পাশে গর্ত থেকে ভেসে আসছিল শিশুর কান্না। উৎসুক মুসুল্লিরা এগিয়ে যান গর্তের কাছে। সবাই দেখেন, গর্ত থেকে হাত-পা নাড়ছে সদ্যোজাত শিশু। ঠাণ্ডায় বসে যাওয়া গলা থেকে বের হয়ে আসছে কান্নার স্বর।

মুসুল্লিদের পরামর্শে শিশুটিকে গর্ত থেকে তোলে নেন হাজি আবুল হোসেন। ওই শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তোলে দেন পুত্রবধূর কোলে। সদ্যোজাত পুত্র শিশু কুড়িয়ে পেয়েছেন, এ কথা গোপন রাখেন হাজি আবুল হোসেনের পরিবার। তাদের ইচ্ছে, কুড়িয়ে পাওয়া এই শিশুটিকে লালন-পালন করবেন তারা। সেজন্যই তারা গোপণীয়তার আশ্রয় নেন তারা। কিন্তু এক কান দু কান করে জেনে যায় গ্রামের সবাই। হাজি আবুল হোসেনের বাড়িতে শনিবার বিকেল থেকেই দলে দলে মানুষেরা দেখতে যায় ওই শিশুটিকে।

শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের সামনে তারাকান্দি-ভুয়াপুর সড়কের পাশে গর্ত থেকে পাওয়া যায় ওই শিশুটি।

পিংনা দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাজি আবুল হোসেন পিবিএ’কে জানান, শনিবার সকালে ফজর নামাজ শেষে মুসুল্লিদের সাথে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় সড়কের পাশে একটি গর্ত থেকে বাচ্চার কান্নার শব্দ আসছিল। সবাই এগিয়ে গিয়ে দেখি, সদ্যোজাত শিশু। মুসুল্লিদের পরামর্শে তাকে আমি নিজবাড়িতে নিয়ে যাই। তোলে দিই পুত্রবধূর কোলে। শিশুটিকে লালন-পালন করার উদ্দেশ্যে একথা গোপন রাখলেও জানাজানি হয়ে যায়। বিকেল থেকেই শিশুটিকে দেখতে আসেন গ্রামের মানুষেরা।

আমার ছেলে আব্দুল জলিলের ঘরে সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তাদের আর সন্তান হচ্ছে না। তাই শিশুটিকে জলিল ও তার স্ত্রী সন্তান হিসেবে লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জলিলের স্ত্রী পূর্ণিমা বেগম পিবিএ’কে বলেন, ছেলেটি পেয়ে আমরা খুশি। আমরা তাকে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই। ছেলেটির নাম আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহিদ আলিফ রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তারাকান্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহব্বত কবীর পিবিএ’কে বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ বিয়য়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। হাজি আবুল হোসেনের ছেলে ওই শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

পিবিএ/রাজন্য রুহানি/বিএইচ