চৌদ্দগ্রামে ২৩টি পূজা মন্ডপে চলছে উৎসবের আমেজ

1

এম এ আলমঃ শারদীয় দূর্গোৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জাঁকঝমকপূর্ণ মহাষ্টমীতে আজ রবিবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি পূজা মন্ডপে চলছে উৎসবের আমেজ। বিভিন্ন পূজামন্ডপে কুমারী পূজা আর দেবীর সন্ধিপূজার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে থাকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। যুগ যুগ ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে শারদীয় দূর্গোৎসব। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের জীবনবোধ ও চিন্তাধারার সংমিশ্রণের ফলে ধর্মের মর্মবাণীতে এক সংহতির পরিবেশ সৃষ্টি হয় শারদীয় দূর্গোৎসবে, যা এই উৎসবকে করে আরো টেকসই। তার মাঝে দেবী মায়ের আগমন, ঢাকের শব্দ, ধূপধুনার মাঝে মন হয়ে ওঠে আরো উদাসীন। তাই পৌরাণিক কাহিনীকে বর্তমানের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে মন হয়ে ওঠে উদগ্রীব। ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে এই পূজার সূচনা হলেও এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় তারও আগে। বিজয়া দশমীতে বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই উৎসবের সমাপ্তি হয়ে থাকে। ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শারদীয় দূর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে উৎসবের আমেজ চলছে। পূজাকে আনন্দমূখর করে তুলতে দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই পূজামন্ডপগুলোকে নানা সাজে সাজানো হয়েছে। বর্তমানে দূর্গোৎসবে অনেক আধুনিকতা এসেছে, আলোর বর্ণচ্ছটায় পূজা মন্ডপকে মহিমান্বিত করা অথবা একেক মন্ডপে কোন এক বিশেষ প্রতিপাদ্য বিষয়কে তুলে ধরে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার এক রীতি চালু হয়েছে। চৌদ্দগ্রামেও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতিমা কারিগররা মনের মাধুরী দিয়ে সাজিয়েছেন দেবী দূর্গা, দশভূজাসহ হরেক রকম প্রতিমা। এবার চৌদ্দগ্রামে ২৩টি পূজামন্ডপে দূর্গোৎসব চলছে। পূজা মন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত আছেন সার্বক্ষণিক। এবিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু প্রমোদ রঞ্জণ চক্রবর্তী জানান, “শারদীয় দূর্গোৎসব হচ্ছে অসত্যকে পরাভূত করে সত্য ও ন্যায়ের বাতাবরণ প্রতিষ্ঠার শুভ সময়। সার্বজনীন দূর্গোৎসবের মূলবাণী হচ্ছে, সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে এবং সবার উদ্যোগে সমন্বিতভাবে পূজার আয়োজন করা। যার মাধ্যমে হিন্দুদের মধ্যে বর্ণ বিভাজনের ভাবনাকে দূরীভূত করে ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। এবিষয়ে পৌর এলাকার নাথ বাড়ি গীতা সংঘ দূর্গা মন্দিরের উপদেষ্টা মাস্টার নান্টু চন্দ্র দেবনাথ বলেন দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে দূর্গতিনাশিনীর আগমন আনন্দে মেতেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দূর্গোৎসব হচ্ছে সব মানুষকে সত্যের অনুসারী হওয়ার পথে অনুপ্রাণিত করা এবং পৃথিবী থেকে দূর্বৃত্তায়নকে দূর করে সত্য ও ন্যায়ের পথ প্রতিষ্ঠা করা।