প্লাস্টিকের তৈরী পন্যের সহজলভ্যতায় বাঁশ-বেতের তৈরী কুটি শিল্প বিলুপ্তিরপথে

আহম্মদ কবির,তাহিরপুরঃদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ন্যায়, সুনামগঞ্জ দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট,পরিবেশ সঙ্ককটাপন্ন এলাকা টাংগুয়ার হাওরে পরিবেশ ধ্বংসাত্মক প্লাস্টিকের তৈরী মৎস্য আহরণের পন্যসামগ্রী সচরাচর ব্যবহারের ফলে,টাংগুয়ার হাওর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ-বেতের তৈরী কুটি শিল্প বিলুপ্তির পথে। টাংগুয়ার হাওর এলাকার মৎস্য আহরণকারীরা অধিক মাছ আহরণের আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে প্লাস্টিকের তৈরী মাছ ধরার সরঞ্জাম ক্রয় করে। এই প্লাস্টিকের তৈরী মাছ ধরার উপকরণ দিয়ে,টাংগুয়ার হাওরে অবাধে মৎস্য আহরণের সুযোগ পাওয়ায়।টাংগুয়ার হাওর এলাকায় বিভিন্ন গ্রামে বাঁশ বেতের তৈরী মৎস্য আহরণের সরঞ্জাম বিক্রি করতে না পাড়ায় আজ এ শিল্পের করুন হাল।

জানা যায়, এক সময়ের আবহমান গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ছিল বাঁশ শিল্প। এ শিল্পকে পুঁজি করে,টাংগুয়ার হাওরের উপড় নির্ভরশীলতা কমাতে, প্রকল্পের সহযোগিতায় টাংগুয়ার হাওর সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে, হাওর এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠে এই কুটির শিল্প। আর এই শিল্পের সাথে এখনো জড়িত রয়েছে হাওর এলাকার সহস্রাধিক জনগোষ্ঠী। টাংগুয়ার হাওর এলাকার তাহিরপুর/ধর্মপাশা উপজেলার, দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের হামিদপুর, চাপাইতি, এবং তাহিরপুর উপজেলার শিবপুর জাঞ্জাইল সহ একাধিক গ্রামের মৎস্য পেশাদার লোকেরা এ পেশার সাথে জড়িত রয়েছে।এক সময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ পেশায় নিয়োজিত হামিদপুর গ্রামের অধিকাংশ ও চাপাইতি গ্রামের একাংশ লোকেরা রাস্তার ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনায় বসে শুধু বাঁশ-বেতের তৈরী মাছ ধরার উপকরণ সহ বিভিন্ন বাঁশ-বেতের তৈরী পণ্যসামগ্রী তৈরি করত। উনাদের মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার ঝাঞ্জাইল গ্রামের মৎস্যজীবীরা তৈরী করত, বেতের তৈরী শীতলপাটি, এই শিল্পে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও রান্না ঘরের কাজ শেষে এই সব পণ্যসামগ্রী তৈরীর কাজে পুরুষদের সহযোগিতা করত। তারা বেতের তৈরী এই সব শীতলপাটি গ্রামে গ্রামে ফেরি করে ও এলাকার হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত । শুধু তাই নয় তারা স্থানীয় বিভিন্ন মেলায় এই সব সামগ্রীর পসড়া সাজিয়েও বিক্রি করা হতো।টাংগুয়ার হাওর এলাকার হামিদপুর গ্রামের মোঃখোকন মিয়া (৩০) একই গ্রামের মোঃনিজাম উদ্দিন (৩৫),এবং মোঃলাহু মিয়া (৩৮)

আলাপচারিতার মাধ্যমে জানাযায় , এক সময় গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে বাঁশ-বেতের তৈরী এই সব সামগ্রীর খুবই কদর ছিল। এখন অধিক মৎস্য আহরণের আসায়,সেই স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরী রঙ বেরঙের পণ্যসামগ্রী। বর্তমানে আগেরকারমত বাঁশ-বেতের তৈরী মাছধরার উপকরণ তেমন আর বিক্রি হয় না। তবে আগেকারমত বিক্রি না হলেও,এখনো অনেকেই পৈতিৃক সূত্রে প্রাপ্ত এ ব্যবসা ধরে রেখেছে।হাওরের কিছু মানুষ আছে যারা আজও তাদের বাঁশ-বেতের তৈরী এ সব,মৎস্য আহরণের পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে চায়। বাঁশ-বেতের তৈরী মাছধরার উপকরণ গুলোতে দির্ঘ্যদিন ব্যবহার করতে না পাড়ায়, এবং টাংগুয়ার হাওরে প্লাস্টিকের তৈরী মাছ ধরার উপকরণ ব্যবহার করার সুযোগ পাওয়ায়, অনেকেই এই বাঁশ-বেতের তৈরী মাছধরার উপকরণ ক্রয় করতে আগ্রহী নয়।

এ ব্যাপারে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে গত (৩০মে) টাংগুয়ার কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড এর প্রতিনিধিগনের সাথে আলোচনা সভা ও টাংগুয়ার হাওর সংলগ্ন লামাগাও বাজারে,টাংগুয়ার হাওরে অবাধে মা ও পোনামাছ নিধন বিরোধী প্রচারাভিযান করেন এতে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন এখন হাওরে মাছের প্রজননকালীন সময়। কিন্তু অবাধে হাওরে মা মাছ ও পোনা ধরা হচ্ছে। এতে মাছের ফলন কমবে এবং প্রজাতি বিনষ্ট হবে। এতে হাওরের মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। তাই অবিলম্বে এটি বন্ধ করতে হবে। একই সাথে কোনা জাল ও কারেন্ট জাল ও প্লাস্টিকের তৈরী মাছ ধরার উপকরণ দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হবে।’উনি আর বলেন তাদের এই কার্যক্রম মাসব্যাপী চলবে। হাওর তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামে জেলেদেরকে তারা মা মাছ ও পোনা নিধন বন্ধে সচেতন করে যাবেন। তারা এ কার্যক্রমে সরকারের উদ্যোগ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছেঃ-

দেশের সকল জেলা উপজেলাইয় সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছে । আমাদের সাথে কাজ করতে সরাসরি যোগাযুগ করুন ০১৭১১০০০২১৪