হাওর পাড়ের কথাশিল্পী অধ্যাপক সাহিত্যিক সাহেদ আলীর ৯৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

3

হাওর পাড়ের কথাশিল্পী  অধ্যাপক সাহিত্যিক সাহেদ আলীর ৯৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

আহম্মদ কবির,তাহিরপুর হতে: সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলা টাংগুয়ার হাওড় পাড়ের কৃতি সন্তান অনন্য প্রতিভার অধিকারী, যিনি ছিলেন পটভূমিতে গল্পগ্রন্থ সৃষ্টিতে অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী। অধ্যাপক সাহিত্যিক শাহেদ আলী,যার জন্ম ১৯২৫ সালের ২৬শে মে, সুনামগঞ্জ জেলার টাংগুয়ার হাওর সংলগ্ন, মাহমুদপুর নামক অজপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন,জন্ম যার যেতায় সেতায় কর্মেই তার পরিচয়, যার উদাহরণ হাওর পাড়ের অধ্যাপক সাহিত্যিক শাহেদ আলী। তার পিতার নাম মৌলভী ইসমাইল এবং মাতার নাম আয়েশা খাতুন। তিনি বিয়ে করেন ১৯৫৯ সালে চট্রগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে চেমন আরা কে,বিয়ে করার সময়, চেমন আরা পড়ালেখা অসম্পূর্ণ থাকায় ,পড়ে স্বামীর সহযোগিতায় এমএ সম্পন্ন করে অধ্যাপনায় যোগ দেন,তার নিজের লিখা অনেকগুলো বই বের হয়েছে।
আজ এই হাওড় পাড়ের সাহিত্যিক সাহেদ আলীর ৯৪ তম বার্ষিকী । কিন্তু সরকারি ভাবে দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক অধ্যাপক সাহেদ আলীর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালনের তেমন কোন উদ্যোগ না থাকায়। উনার কর্মজীবনের ইতিহাস, হাওর পড়ের তরুণ প্রজন্ম, দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে । স্থানীয়দের তথ্যমতে জানা যায়, অধ্যাপক সাহিত্যিক শাহেদ আলীর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী পালনে,সরকারি অথবা স্থানীয়দের মধ্যেও চোখে পড়ার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। এমনকি দেশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমে জাতীয় অথবা আঞ্চলিক পত্র-পত্রিকায় পুর্বে মাঝে মধ্যে উনার কর্মজীবন নিয়ে কিছু লেখা- প্রকাশ হলেও, আজকাল আগেরকার মত জাতীয় কিংবা আঞ্চলিক পত্র-পত্রিকায় তেমন কোন লিখা চোখে পড়ছে না।তাই উনার জন্মভূমি হাওর পারের প্রজন্মের কাছেও উনার কর্ম ইতিহাস দিনদিন হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই আজ উনার ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষে উনার জীবনকর্ম তরুণ প্রজন্মকে স্বরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য, সাহেদ আলী কে নিয়ে লিখা বিভিন্ন সুত্র হতে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে,আমি একজন হাওড় পাড়ের নগণ্য তরুণ সাংবাদিক হিসাবে বিবেকের তাড়নায়, আমাদের গৌড়বময় ব্যাক্তির কর্মজীবন তরুণ প্রজন্মকে স্বরন করিয়ে দেওয়ার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র চেষ্টা মাত্র।
সুনামগঞ্জ তাহিরপুরের হাওড় পাড়ের অজপাড়া গ্রামের শাহেদ আলী একজন সাহিত্যিক,গল্পকার, কলম সৈনিক ও অধ্যাপক ছিলেন। তার গল্পের মূল বিষয় ছিল মানবতা মনুষ্যত্ববোধ,নীতিকথা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ। এই হাওড় পাড়ের সাহিত্যিক সাহেদ আলীর লিখা গ্রামের মানুষের বৈশিষ্ট্র ও গ্রামের অবহেলিত খেটে খাওয়া জনমানুষের জীবনবৈচিত্রের সার্থক প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠত তার লিখনীর ভাষায়। সাহেদ আলীর গল্পে কোন সংঘাত, হিংসা-বিদ্বেষ, অত্যাচার-নিপীড়ন, অরাজকথা-পৈশাচিকতা নেই। শুধুই মানবিক গুণাবলিতে ফুটে উঠেছে উনার লিখনির ভাষার গল্পগ্রন্থ। দেশের মুসলিমজাতির মধ্যে যে কয়জন ছোট গল্পকারগনের গল্প লিখা চোখে পড়ে তার মধ্যে হাওড় পাড়ের শাহেদ আলী নানা দিক বিবেচনায় উল্লেখযোগ্য। এই হাওড় পাড়ের সাহেদ আলীর যে কয়েকটি বিষয়ে আজ আমরা মুসলিম জাতি হিসাবে মুল্যায়ন করা উচিত,তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল উনি হলেন দেশের মুসলিম জনগোষ্টির একজন স্বার্থক রূপকার। সাহেদ আলীর লিখা গল্প চোঁখে পড়লেই খুজে পাওয়া যায়, ভাটি অঞ্চল হাওড় পাড়ের মানুষের সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না, জীবন চলার নানা প্রতিকূলতার সংগ্রাম ইত্যাদি। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে একজন ইসলামিক চিন্তাবিদ ছিলেন এবং উনার হৃদয়ে যাহা লালন করতেন, তাহা উনার লেখার ভাষায় ফুটে আছে আজ ইতিহাসের পাতায়। তিনি মুসলমানদের জীবন কাহিনী লিখতে যেভাবে ভালবাসতেন, তেমনি গল্পগ্রন্থ লিখতে শব্দ ব্যাবহারে ছিলেন অত্যান্ত সচেতন। এমন শব্দ তিনি তার গল্পে ব্যবহার করেছেন যা জন্মভুমি এই বাংলার নিজস্ব ভাষা, যাহা বাংগালীজাতির জনজীবনের চলমান শব্দাবলী। তাঁর গল্প পড়লে সহযেই বলা যায় গল্পের উদ্যেশ্য। গল্পকার যেমন তার লিখনির ভাষায় সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতেন তার কল্পনার ভূবন। তেমনি তিনি চিন্তামগ্ন করতেন প্রায়ই তার জন্মভুমি গ্রাম, হাওড় এবং,হাওড়ের জিববৈচিত্র হাওড় পাড়ের গরীব-দুঃখী,মেহনতি বিন্ন পেশাদ্বার জনমানুষের কথা।
হাওড় পাড়ের অধ্যাপক সাহিত্যিক সাহেদ আলী শৈশবকালেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাসম্পন্ন,তৎকালীন সময় উনার জন্মভুমি হাওড় পাড়ে শিক্ষা ব্যাবস্থা নাম মাত্র থাকলেও, উনি ছিলেন অন্যদের ছেয়ে আলাদা উনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে সাফল্যতার সাথে প্রাথমীক শিক্ষা অর্জন করেছেন।
১৯৪৩খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় হতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ন হন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে সিলেট এমসি কলেজ থেকে ব্যাচলার ডিগ্রি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৫০খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সহিত্যে মাষ্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। এই হাওড় পাড়ের সাহেদ আলী শুধু কথাশিল্পীই ছিলেন না, তিনি সমাজ সংস্কারকও ছিলেন। উনি পাকিস্তান আমলে ভাষা আন্দোলনে অন্যতম ভুমিকা পালন করেছেন, উনি ছিলেন একজন ভাষা সৈনিক। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র দৈনিক সৈনিক পত্রিকায় সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন সাহেদ আলী। এবং ১৯৪৮ হইতে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ভাষা আন্দোলনের সার্বিক
কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন তিনি। সাহিত্যিক সাহেদ আলী ভাষা আন্দোলনের সংগঠনের নাম ছিল তমুদ্দিন মজলিস এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন
করেন তিনি। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের শিক্ষাদানের মাধ্যমে শুরু হয় সাহেদ আলীর কর্মজীবন। পর্যায়ক্রমে রংপুর কারমাইকেল কলেজ, চট্রগ্রাম সিটি কলেজ ও প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম প্রতিষ্ঠিত মিরপুর বাংলা কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন সাহেদ আলী। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে খেলাফত রব্বানী পার্টির ব্যানারে পূর্ব-পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন সাহেদ আলী। ১৯৫৪ হইতে ১৯৫৮খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি আইন সভার সদস্য ছিলেন। হাওড় পাড়ের সাহেদ আলী শৈশবকাল হতেই লিখতে ভালবাসতেন, তারি দ্বারাবাহিকতায় অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়ন কালে তখনকার বিখ্যাত সওগাত পত্রিকায় তার সর্বপ্রথম গল্প অশ্রু” প্রকাশিত হয়।
১৯৪৪ হইতে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি মাসিক প্রভাতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৫৫