ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে মৃত্যর মিছিল থামছেনা

2

ফেনী থেকে মিজানুর রহমান: ফেনী- বিলোনিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটি যেন দিনদিন মৃত্যুকুপে পরিণত হয়েছে। লাশের মিছিলে দৈনন্দিন যোগ দিচ্ছে এই অঞ্চলের আবাল, বৃদ্ধ, শিশুসহ সর্বসাধারন মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, এক পাশ থেকে অন্য পাশ দেখা না যাওয়ার কারনে এবং সতর্কতামূলক কোন সাইনবোর্ড না থাকাতে এই লাশের মিছিল দীর্ঘ থেক দীর্ঘ হচ্ছে। লাশের সারিতে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মুখ।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ ২৬ কিঃ মিঃ সড়কে মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ ছোট বড় ২০টি বাঁক রয়েছে। যা সোজাকরণের জন্য কোন উদ্যোগ নেয়নি সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। গত সাপ্তাহে ব্যবসায়ী ও পল্টন থানা যুবদলের যুগ্ন সম্পাদক খোরশেদ খান ও সিএনজি চালক সালেহ আহম্মদ নিহত হন। তার পরের সাপ্তাহে ফুলগাজীর আনন্দপুরে ট্রাক চাপায় হাবিবুর রহমান আয়াত নামে পাঁচ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। এর কিছুদিন আগে ফুলগাজীর কলাবাগান নামক স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় হাফেজ আব্দুল জব্বার নিহত হয়েছেন। ২০১৮ সালের ১৫ই জানুয়ারী মুন্সিরহাট কুতুবপুর রাস্তার মাথায় মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায় মাহমুদ নামে এক ডিস লাইনম্যান। একই বছর সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম রাসেল এই হাসানপুর নামক স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ঐ বছরই মে মাসে এই সড়কটির কাজিরবাগে মর্মান্তিকভাবে হাসিনা আক্তার (২৮) ও তার মেয়ে উম্মে হাফসা (২) নিহত হন। ২০১৬ ডিসেম্বর মাসে এই সড়কটিতে প্রাণ হারান স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার (১১) সহ অসংখ্য ব্যক্তি। সড়কটির প্রতিটি ইটের কণা এবং ধুলির সাথে মিশে আছে অসংখ্য পরিবারের স্বজন হারানোর যন্ত্রনা।

এদিকে গত ২৯ এপ্রিল সোমবার দুপুরে ফেনী সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা সহ আনন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। তাৎক্ষনিক তিনি সড়কের বাঁকে গাছ-গাছালি পরিস্কার করে দেন। এ সময় বাঁকটি সোজা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা ও জানান। সবচেয়ে বেশি দূর্ঘটনার শিকার হওয়া স্পট সমূহ হচ্ছে ফেনী থেকে রানীরহাট, মজিদ মিয়ার ব্রীজ, কাজিরবাগ, ফরেষ্ট গেইট, কহুয়া উত্তর পার্শ্বের হাসানপুর ব্রীজ, হাসানপুর তাহেরের দোকান, আনন্দপুর বাজারের দক্ষিন পাশে ও উত্তর পাশে, আনন্দপুর চারা বটগাছ প্রাইমারী স্কুল সড়কের মাথায়, ফুলগাজী বাজার ব্রীজ, চিথলিয়া নাসির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিন পাশে, আবদুল আজিজ বিএ সড়কের মাথায়, পরশুরাম বাজার ব্রীজ, পরশুরাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন সড়ক ও বাউরখুমায় ৫টি বাঁক রয়েছে। এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো দিয়ে প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা। কেউ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে, আর কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উক্ত আনন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার জানান- গত ৫ বছরে এই স্পট গুলোতে প্রায় ২০ জনের অধিক লোক মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।যা অত্যান্ত বেদনা দায়ক। আমি এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী, অতি সত্বর সড়কটির বাঁক সমুহ যেন সোজা করা হয়। না হয় আরো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে। এ জন্য স্থানীয়রা স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।