নুসরাত জাহান হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি চেয়ে খাগড়াছড়িতে এনসিটিএফ’র স্মারকলিপি

1

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

নুসরাত হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি চেয়ে খাগড়াছড়িতে এনসিটিএফ’র স্মারকলিপি।

১৮এপ্রিল ২০১৯খ্রি. বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নুসরাতসহ সকল ধর্ষন ও নির্যাতনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি চেয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলামের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন খাগড়াছড়ি জেলা এনসিটিএফ এর সদস্যবৃন্দ ও জেলা ভলান্টিয়ারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা এনসিটিএফ এর সভাপতি পুষ্পিতা চাকমা, সাধারন সম্পাদক নুসরাত জাহান জুই, চাইল্ড পার্লামেন্ট মিডিয়া ত্রিপুরা, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল মাওয়া, শিশু গবেষক সচিন দাশ আর জেলা ভলেন্টিয়ার ডালিয়া ত্রিপুরা আর যদুনাথ ত্রিপুরা।

স্মারকলিপিতে ন্যাশনাল চিলড্রেনস টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সভাপতি পুষ্পিতা চাকমা স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, সম্প্রতি নুসরাত হত্যাকান্ড যেন মধ্য যুগের বর্বরতাকেও হার মানায়। নুসরাত হত্যার ভয়াবহতা ও নির্মমতা আমাদেরকে আতংকিত করে তুলছে। আমরা দেখেছি শিশু ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন রোধে নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রায় হলেও তার যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব। ৬৪জেলার সকল শিশুদের পক্ষ থেকে নুসরাতসহ এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সকল শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের তীব্র নিন্দা জানাই। ধর্ষণসহ অন্যান্য নির্যাতনের শিকার শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনের নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য প্রদানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। ধর্ষক এবং এর সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এছাড়াও বাংলোদেশের সকল শিশুর পক্ষ থেকে দেশে নুসরারতসহ অন্যান্য শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতন বন্ধের জন্য জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের অনুরোধ জানান।

প্রসঙ্গত, ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে এনে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ রাফি।

এর আগে ২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।