অপরাধ দমনে এখন থেকে অভিযান চালাবে পুলিশের স্পেশাল ইউনিট ATU

1

অনলাইন ডেস্কঃ জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাসহ জননিরাপত্তা নিশ্চিতে গঠিত অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) পরিচালনায় বিধিমালার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর ফলে পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিটের জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোসহ অনুসন্ধান এবং এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্ত পরিচালনায় আর কোনও বাধা রইলো না।পুলিশ সদর দফতর থেকে ‘অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট বিধিমালা-২০১৯’ প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিধিমালায় এটিইউয়ের কার্যাবলিতে বলা হয়েছে, কাউন্টার রেডিকালাইজেশন এবং ডি-রেডিকালাইজেশনসহ অন্যান্য কার্যক্রম হাতে নেওয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এটিইউ। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সহায়তায় উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের ওপর প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা নজরদারি করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা, তাদের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধসহ আটকের লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে তারা।
বিধিমালায় আরও বলা হয়, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা এবং এর সম্ভাব্য প্রতিকারে আইজিপির (পুলিশের মহাপরিদর্শক) নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করবে ATU।

পুলিশ সদর দফতরের ইকুইপমেন্ট শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সন্ত্রাসবাদ দমনে ATU গঠনের জন্য সরকার অনেক আগেই উদ্যোগ নেয়। ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এর অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর দুই বছর গেলো বিধিমালা তৈরিতে। ফলে পুরোদমে অপারেশনাল কাজ শুরু করতে পারেননি তারা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও পাননি। মাত্র মাস তিনেক আগে কিছু KRISS VECTOR SMG তারা হাতে পেয়েছে। পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে এই ইউনিটের গঠন ও এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫৮১টি পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে ৩১টি ক্যাডার পদ এবং ৫৫০টি অস্থায়ীভাবে সৃষ্টি করা হয়। ইউনিটের প্রধান হিসেবে একজন অ্যাডিশনাল আইজি, একজন ডিআইজি, দুইজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পাঁচজন এসপি, ১০ জন অ্যাডিশনাল এসপির পদায়ন হয়ে গেছে। এএসপি পদে ১২ জনের মধ্যে কয়েকজনের পদায়ন হয়েছে। ৭৫ জন ইনস্পেক্টরের পদায়ন হয়েছে। ১২৫ জন সাব ইনস্পেক্টরের মধ্যে এখনও কিছু বাকি আছে। কনস্টেবলসহ অন্যান্য পদবিতেও পুরো নিয়োগ হয়নি। সব মিলিয়ে পাঁচ শতাধিক নিয়োগ হয়ে গেছে। বাকিগুলোতেও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

এটিইউয়ের কার্যক্রম এখন রাজধানীর বারিধারার বি-ব্লকের ৩৫ নম্বর বাড়ির অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে। স্থায়ীভাবে ইউনিটের কার্যালয় স্থাপনের জন্য পূর্বাচলের পাশে জমি দেখা হয়েছে। একই জায়গায় পুলিশ লাইনও স্থাপন করা হবে। ইউনিটের জন্য যানবাহন ছাড়াও প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি কেনারও প্রস্তাব রয়েছে।