পাথরঘাটায় বিস্ফোরণ

অনলাইন ডেস্কঃ হঠাৎ করে যেন সব শেষ হয়ে গেল।হারিয়ে গেলো কারো মা কারো সহধর্মীনি কারো বোন কারো কিছুক্ষণ আগে পান কেনা ক্রেতা। এমনটাই যে ঘটবে কল্পনা ছিল না কারো। একটি বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারিয়েছে সাত সাতটি তাজা প্রাণ। তবে কি কারণে এমনটাই ঘটলো তার ব্যাখ্যা জানা নেই কারো।কেউ বলছে গ্যাস আর কেউ বলছে সেফটি ট্যাংকয়ের বিস্ফোরণ বা অন্য কারণ। প্রশ্ন এখন সবার প্রশ্ন।

বিস্ফোরণের জন্য দায়ি কী কারণ।

রোরবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে পাথরঘাটার ব্রিকফিল্ড রোডে বড়ুয়া বিল্ডিংয়ে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিস্ফোরণে ভবনের দেয়াল ধসে নারী ও শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।এ ঘটনায় দগ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

এ ঘটনায় প্রায় সকলেই গ্যাসের লাইন বা রাইজার থেকে বিস্ফোরণের কথা বললেও গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোস্পানীর মতে গ্যাসের কারণে বিস্ফোরণ হয় নাই।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোস্পানী লিমিটেড মহাব্যবস্থাপক প্রকৌ. মোঃ সারওয়ার হোসেন বলেনে, এখানে গ্যাসের কোনো সমস্যা না।গ্যাস লাইনে ত্রুটি থাকার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।ওই বাসার গ্যাসের চুলা অক্ষত আছে। সেইফটি ট্যাংক বা অন্য কোনো কারণে বিস্ফোরণটি হয়েছে।

গ্যাসের কারণে এই বিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়েছে এবং রাইজারটি পুরাতনের কারণে এমন ঘটনা।পাইপ লাইনে ছিল না কোনো ট্যাপ। এধরণের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে সচেতনাই বেশি প্রয়োজন এমনটি মনে করছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিদর্শক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, এখানের রাইজারটা ছিল অধিক পুরাতন এবং এটার সাথে যে পাইপ লাইনটা ছিল ওটা অতি পুরাতন। পাইপ লাইনটা রাবার দিয়ে মোড়ানোর কথা ছিল কিন্তু পাইপ লাইনে রাবার মোড়ানো ছিল না। তাই আমরা ধারণা করছি এই পাইপ লাইনের যেকোনো একটা ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়েছে। তখন গ্যাস প্রত্যেক রুমের মধ্যে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। আর রুমের মধ্যে যেসকল প্ল্যাক সুইচ থাকে তার অভ্যন্তরে গ্যাস প্রবেশ করে। তখন কেউ যদি সুইচ অন করে তাহলে এসপার্কের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তবে আমরা যেটা শুনছি, ওই বাসার মহিলা সকালে পূজা দেয়ার উদ্দেশ্যে দিয়াশলাই জ্বালিয়ে ছিলেন।দিয়াশলাই জ্বালানোর সাথে সাথে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণটা এমন ভাবে ঘটেছে যা সমস্ত রুমে এক সাথে ঘটছে।আর বিস্ফোরণের মাত্রা এত বেশি শক্তিশালী ছিল যে দুর্বল জায়গা গুলো ভেঙ্গে রাস্তায় গিয়ে পড়েছে।

বিস্ফোরণ হওয়া পাইপ লাইন বিষয়ে তিনি বলেন, যে পাইপ লাইনটায় বিস্ফোরণ ঘটছে এটা অতি সুক্ষ্র এবং চিকন হয়ে গেছে, ব্যবহার করতে করতে পুরাতন হয়ে গেছে।যে লাইনটা গ্যাস ডেলিভারী হয় তা ট্যাপ দিয়ে মোড়ানো থাকে। কিন্তু ওখানেও ব্ল্যাক টেপও ছিলো না। আর পাইপটা অতি পুরাতন ছিল।
Image may contain: one or more people and outdoor

এধরণের দুর্ঘটনার রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা রাইজার ও গ্যাস লাইন ব্যবহার করে তাদের উচিত কিছু দিন পর পর পাইন লাইনটা টেষ্ট করা উচিত। এতে করে পাইপ লাইনটা ঠিক আছে কিনা বা কোনো মরিচা ধরেছে কিনা বুঝা যায়। আর পাইপ লাইনে সমস্যা থাকলে তা পরিবর্তন করে নেয়া দরকার।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর ছাড়াও রাইজারের কারণে বড়ুয়া বিল্ডিং এর বিস্ফোরণ বলে প্রাথমিক ধারণা ফায়ার সার্ভিসের। এঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে। আগ্রাবাদ, চন্দপুরা ও নন্দনকানন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজ করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর পরিদর্শক ওমর ফারুক বলেন, গ্যাস রাইজারের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা। কারণ এটা অনেক পুরাতন হয়ে গেছে।

পড়ুন আগের নিউজ: চট্টগ্রামে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে ৭ জনের মৃত্যু

বিএনএনিউজ২৪.কম/এসজিএন

সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছেঃ-

দেশের সকল জেলা উপজেলাইয় সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছে । আমাদের সাথে কাজ করতে সরাসরি যোগাযুগ করুন ০১৭১১০০০২১৪