ইমারজেন্সি ব্রেক করলেও ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ধাক্কা লাগে

4

অনলাইন ডেস্কঃ স্টেশনে ঢোকার সময় একটি বাঁক আছে। ওই বাঁকের মাথায় ইট থাকার কারণে আমরা সিগন্যাল লাইটটি দেখতে পাইনি বলে জানায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের গার্ড আবদুর রহমান । তিনি আরো জানান, বাঁক পার হওয়ার পর সিগন্যালাটি চোখে পড়লে চালক ইমারজেন্সি ব্রেক করেন। কিন্তু এরপরও ২০ সেকেন্ডের মধ্যে তূর্ণা নিশীথা উদয়নের সঙ্গে ধাক্কা লাগে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) এই প্রতিবেদকের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় উদয়নের চালক (লোক মাস্টার) সানাউল টিপুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাইট ট্র্যাকেই ছিলাম। কিন্তু তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল না মানায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা আগেই স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিলাম।

সহকারী চালক (লোক মাস্টার) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা তো আগেই স্টেশনে ঢুকে গিয়েছিলাম। কিন্তু তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করে স্টেশনে ঢুকে উদয়নকে ধাক্কা দেয়। এতে আমাদের চারটা বগি দুমড়ে মুচড়ে গেছে। আমাদের ১০, ১১, ১২, ১৩ একেবারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১১ নম্বর বগি।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত ৩টার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে উদয়ন ট্রেনের কয়েকটি বগি আরেকটি ট্রেনের ওপর উঠে যায়। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনকে মন্দবাগ রেলস্টেশনে দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়। ওই সিগন্যালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস প্রধান লেন থেকে ১ নম্বর লাইনে যেতে শুরু করে। ট্রেনটির ছয়টি বগি ১ নম্বর লাইনে উঠতে পেরেছিল। অন্য বগিগুলো প্রধান লেনে থাকা অবস্থায় তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করে। এতেই দুর্ঘটনা ঘটে। উদয়নের তিনটি বগি দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত ও অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

পিবিএ/জেডআই