বৈশাখকে সামেন রেখে বাজারে ইলিশের দাম আকাশ ছোঁয়া

বাণিজ্য: বাঙালির সার্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ দুয়ারে কড়া নাড়ছে।একটা সময় ছিল পহেলা বৈশাখ মানেই সকালে উঠে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ ভাজা খাওয়া। তবে ২০১৭ সাল থেকে এ রীতিতে কিছুটা ভাটা নামে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাজারে এক কেজির কিছু বেশি ওজনের একটি ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। যা সপ্তাহখানেক আগেও দেড় হাজার টাকার কাছাকাছি ছিল। নববর্ষের দিন যতো এগিয়ে আসছে, ততোই উত্তাপ বাড়ছে রূপালি ইলিশের। এরপরও পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের দাম বাড়ার প্রবণতা থেমে থাকেনি। গত ২ বছরের তুলনায় এবার রাজধানীর বাজারগুলোতে পহেলা বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে। এ দাম বাড়ার পালে হাওয়া লাগিয়েছে কিছু কিছু সুপার শপ। বাজারে ইলিশ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সুপার শপে বিক্রি হচ্ছে তার চেয়ে দ্বিগুণ দামে। আবার বাজার ভেদে ইচ্ছেমতো দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। রামপুরায় অবস্থিত স্বপ্নের সুপার শপে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি পিস ইলিশ বিক্রি করা হচ্ছে ১৫০০ টাকা করে। একই আকারের ইলিশ রামপুরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। আর কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ীতে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিলে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে পহেলা বৈশাখে ইলিশ না খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা ইলিশ খাবেন না, ইলিশ ধরবেন না। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের খাদ্য তালিকা হিসেবে- খিচুড়ি, সবজি, মরিচ ভাজা, ডিম ভাজা ও বেগুন ভাজার কথা উল্লেখ করেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই আহ্বানের কারণে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বৈশাখ কেন্দ্রিক ইলিশের চাহিদা কিছুটা হলেও কমে যায়। সেই সঙ্গে ইলিশের ঊর্ধ্বমুখী দামেও ছেদ পড়ে। তবে দুই বছর বিরতি দিয়ে এবার আবার ইলিশের দাম বেড়েছে।শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারটির ব্যবসায়ীরা ৮০০-৯০০ গ্রাম আকারের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৪০০-১৫০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৮০০-৯০০ টাকা। ৬০০-৭০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা পিস, যা গত বছর ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর ৩৫০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা জোড়া, যা গত বছর ৮০০ টাকা হালি ছিল। কথা হয় বাজারটির মাছ ব্যবসায়ী হানিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি কারওয়ান বাজারে এক যুগ ধরে মাছের ব্যবসা করছি। প্রতিবারই দেখেছি পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই ইলিশের দাম বহুগুণে বেড়ে যায়। তবে গত দুই বছর বৈশাখের সময় ইলিশের দাম একটুও বাড়েনি বরং কমে গিয়েছিল। দুই বছর বিরতি দিয়ে ইলিশের দাম এবার কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈশাখ কেন্দ্রিক আগে যেমন ইলিশ বিক্রি হতো এখন তেমনটা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশের দাম প্রায় দ্বিগুণ এটা সত্য। কিন্তু এখন যে ইলিশ দেড় হাজার টাকায় বিক্রি করছি ২০১৭ সালের আগে এসব ইলিশ বৈশাখে বিক্রি হতো আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়। ইলিশের দামে এমন তারতম্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্নের এক বিক্রয় কর্মী বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আমাদের সব পণ্যের দাম রেট করা। আমাদের যে দামে বিক্রি করতে বলা হয়েছে আমরা সে দামে বিক্রি করি। আমাদের কাছে ক্রেতাদের দরদাম করে কিছু কিনতে হয় না। ক্রেতাদের সামনে প্রকাশ্য মূল্য তালিকা থাকে। ক্রেতারা সেই মূল্য দেখেই কেনেন। এদিকে মাছ ও মাংসের দাম মানুষকে অস্বস্তি দিলেও এ সপ্তাহে দাম বাড়েনি কোনো সবজির। গত দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দাম একই রয়েছে। প্রায় সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। তবে বাজারে ডিমের দাম সামান্য কমেছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১০৫ টাকা। অপরিবর্তিত রয়েছে সবধরনের মুদি পণ্যের দাম। শুক্রবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় বাজারে ক্রেতা সমাগম বেশি। ইলিশের উপস্থিতি ও বিক্রি দুটোই বেড়েছে। ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। ক্রেতাদের কাছে টানতে বিক্রেতারা হাক ডাক দিচ্ছেন। বাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি ইলিশের দাম দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। এই ওজনের ইলিশ কিছুদিন আগেও এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া নদীর ৯০০ থেকে ১ কেজি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ তিন হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। এক কেজি ১০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের বড় ইলিশও কিছু বাজারে দেখা গেছে। দাম চাইছে প্রতি কেজি চার হাজার টাকা। আর দেড় কেজি বা দুই কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশের প্রতি কেজির দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। তবে ৫০০ গ্রামের নিচে এক হালি ইলিশের দাম তিন হাজার টাকা। তবে বার্মিচ ও সাগরের ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে কম।এছাড়া গত সপ্তাহের মতো সব থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে তেলাপিয়া মাছ, দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। পাঙাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি, রুই ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি, টেংরা কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি, চিতল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৮৮০ টাকা। আর বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। আর কক মুরগির দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কেজি ৩০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। এখন বাজারভেদে কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। চড়া দামে বিক্রি হওয়া সবজির দাম এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নতুন আসা সবজি বরবটির বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। পটল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকায়। ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি। শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, বিক্রি ৭০ থেকে ৮০ টাকা পিস, ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস, ধুন্দুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, মূলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। তুলনামূলক একটু কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, পাকা টমেটো, শশা ও গাজর। পেঁপে আগের মতোই ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, পাকা টমেটো ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি, গাজর পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি, শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছেঃ-

দেশের সকল জেলা উপজেলাইয় সংবাদকর্মি নিয়োগ চলছে । আমাদের সাথে কাজ করতে সরাসরি যোগাযুগ করুন ০১৭১১০০০২১৪