কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি থমথমে

1

আন্তর্জাতিক:: তিনটি পরপর ঘটনা, যার যোগসূত্র ধরে কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি খানিকটা হলেও অনুমান করা যায়। প্রথমত, জাতীয় উপদেষ্টা অজিত দোভালের কাশ্মীর সফর। তারপরই দিল্লির তরফে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন। আর সীমান্তের ওপারে, পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি।

এর পরপর তিনটি ঘটনার জেরে সহজেই অনুমেয় যে ভূস্বর্গ নিয়ে মোটেও চুপচাপ বসে থাকতে রাজি নয় ভারতের দ্বিতীয় মোদি সরকার। আর এরপরই শোনা যাচ্ছে, ২৮ হাজার আরও সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে উপত্যকায়। বিমান বাহিনীকেও পাঠানো হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা। কাশ্মীরেও চলছে হাই অ্যালার্ট।

বাড়ি বাড়ি ঢুকে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনারা। গোটা উপত্যকা এখন থমথমে। এর মধ্যেই নতুন করে সেনা তৎপরতা নিয়ে শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ও রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও।

এদিন এক টুইটে তিনি বলেন, ‘কী হচ্ছে এটা কাশ্মীরে? হঠাৎ কী এমন হল যে রাজ্যে সেনা বাড়ানোর প্রয়োজন পড়ল!’ এর পরপরই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো সাধারণত জনগণের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরা হয় না।’ খবর ইন্ডিয়া টুডে ও পিটিআই।

শোনা যাচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল তার কাশ্মীর সফরে গিয়ে অমরনাথের গুহায় এক ঘণ্টা সময় কাটিয়ে আসেন। সেখানে তিনি সেনা প্রধানের সঙ্গে দেখা করেন। এছাড়াও কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বিষয়ক একাধিক বৈঠক করেন অজিত দোভাল।

অনেকেই মনে করছেন, আর্টিকেল ৩৫ এ ধারা কাশ্মীরে লঘু করার প্রস্তুতিতেই চলছে এমন আয়োজন। গত ৪ দিনে কাশ্মীর দেখেছে ২৮১ কোম্পানি নতুন প্যারামিলিটারি ফোর্স।

উপত্যকায় এবার তাদের মোতায়েন করেছে কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, এ সেনা দলকে সতর্কতায় থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে যে, কেন এমন আচমকা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত! কোন আশঙ্কায় এমন ঘটনা? কোন আশঙ্কায় এমন ঘটনা? সূত্রের দাবি, আচমকা প্যারামিলিটারি ফোর্স মোতায়েন করার নেপথ্যে রয়েছে সরকারের তরফে নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত।

মনে করা হচ্ছে, কেন্দ্র কাশ্মীর নিয়ে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে নিরাপত্তা ঘিরে। আরেকটি সূত্রে শোনা যাচ্ছে, কাশ্মীরের প্রতিটি গ্রাম, পাড়ায়, ১৫ অগাস্ট যাতে ভারতীয় পতাকার দাপট দেখা যায়, এসব আয়োজন তারই লক্ষ্যে।

অমরনাথ যাত্রা বানচাল করতে চাইছে পাক সেনা ও জঙ্গিরা : বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দিল সেনারা। শুক্রবার অমরনাথ যাত্রাপথ থেকে প্রচুর বোমা, একটি ল্যান্ডমাইন এবং একটি টেলিস্কোপিক স্নাইপার রাইফেল উদ্ধার করেছে তারা। আর এর পরই নিরাপত্তার কারণে অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের অবিলম্বে উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর সরকার।

চলে যেতে বলা হয়েছে পর্যটকদেরও। পাক মদদপুষ্ট জঙ্গিরা উপত্যকায় বড় ধরনের হামলার ছক কষেছে। সে কারণেই রাজ্য সরকারের তরফে এমন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়, ‘গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় ধরনের হামলার ছক কষছে জঙ্গিরা।

মূলত অমরনাথ যাত্রীরাই তাদের নিশানায় রয়েছেন। উপত্যকায় এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে অমরনাথ যাত্রী এবং পর্যটকদের নিরাপত্তাকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তাই যত শিগগির সম্ভব, ছুটি কাটছাঁট করে, নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’

কোর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেজেএস ঢিলোঁ জানান, কয়েক দিন ধরেই খবর আসছিল অমরনাথ যাত্রাপথে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে। সেই বার্তা পাওয়া মাত্রই গোটা যাত্রাপথ জ–ড়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সে সময়েই বোমা, ল্যান্ডমাইন ও এম-২৪ রাইফেল উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া ল্যান্ডমাইনটির গায়ে যে তথ্য রয়েছে তা থেকে জানা গেছে সেটি পাকিস্তানের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি। আর টেলিস্কোপিক øাইপার রাইফেলটি আমেরিকার তৈরি।

জেনারেল ঢিলোঁ আরও জানান, তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। এটা থেকে স্পষ্ট যে, এ ঘটনার সঙ্গে পাক সেনারা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত। তারা কাশ্মীরে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

পিবিএ