দশমবারের মত সারাদেশে করমেলা শুরু

1

অনলাইন ডেস্কঃ করসেবা প্রদান ও কর সচেতনতা বাড়াতে দশমবারের মত সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আয়কর মেলা-২০১৯ এর উদ্বোধন করেন।
এরপর মেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ করবর্ষের আয়কর বিবরণী দাখিল করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সাবেক কর কমিশনার ছিদ্দিক হোসেন চৌধুরী আয়কর বিবরণী দাখিল করেন।
মেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী দেশের করযোগ্য প্রত্যেক নাগরিককে কর প্রদানের আহবান জানান।
তিনি বলেন,করের টাকা দিয়ে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,হাসপাতাল ও অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে ব্যয় করা হয় এই অর্থ। তাই দেশের উন্নয়ন এবং সমাজে অবহেলিত মানুষের সহযোগিতার জন্য,সামর্থ্যবানদের উচিত সঠিকভাবে কর দেয়া।
তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে কর প্রদান হলো অসুস্থ প্রতিবেশির সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেয়ার মত।’
মুস্তফা কামাল করদাতাদের উদ্দেশ্য বলেন,ভবিষ্যতে কর আহরণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনিয়ম আমরা সহ্য করব না। করদাতার সাথে কোন কর কর্মকর্তা যদি অসদাচারন করেন কিংবা অবৈধ প্রস্তাব দেন,সেটি তাকে অবহিত করার অনুরোধ করেন তিনি। তিনি বলেন,এ ধরনের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন,অত্যন্ত উৎসবমূখ পরিবেশে মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কর দিতে পারা একটা আনন্দের ব্যাপার। তিনি কর দিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন বলে মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন,শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আজ থেকে মেলা শুরু হয়েছে। করদাতারা সব ধরনের সেবা এখানে পাচ্ছেন। তিনি মেলায় এসে করদাতাদের কর পরিশোধ ও আয়কর বিবরণী দাখিল করার আহবান জানান।
মেলার প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ আয়কর বিবরণী দাখিল করেন।
অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল তার নিজের এবং স্ত্রী ও দুই কণ্যার জন্য মোট সাড়ে ৭ কোটি টাকার কর প্রদান করেন। সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ২৫ কোটি টাকার কর দেন। এছাড়া অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দু’টি করপোরেট প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ফোন ১৫০ কোটি ও ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ১০০ কোটি টাকার কর প্রদান করে।
উল্লেখ্য, এবার রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে সপ্তাহব্যাপী মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ ছাড়া সব জেলা শহরে চার দিন এবং ৪৫টি উপজেলায় দুই দিন মেলা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ৫৭টি গ্রোথ সেন্টারে এক দিন ভ্রাম্যমাণ মেলা হচ্ছে।
ঢাকায় মেলার প্রথম দিনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আয়কর বিবরণী জমা দেন করদাতারা। তারা মেলায় কর সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এবার কর মেলা উপলক্ষে এনবিআর মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ও কর সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত ওয়েবসাইট চালু করেছে। ওয়েবসাইট থেকে আয়কর ফরম ডাউনলোড করে সেটি দাখিল করার সুযোগ আছে।
মেলায় নতুন করদাতারা ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতে পারবেন। আবার পুনঃ নিবন্ধন করে ই-টিআইএন নিতে পারবেন পুরনো করদাতারা। এ ছাড়া মেলায় ই-পেমেন্টের জন্য পৃথক বুথ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, নারী,প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য আছে আলাদা বুথ।