বাকেরগঞ্জে চিকিৎসার নামে মানসিক রোগীকে পিটিয়ে ও ডুবিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভুয়া ফকিরসহ তিনজন গ্রেপ্তার

4

অনলাইন ডেস্কঃ র‌্যাব-৮ কর্তৃক বাকেরগঞ্জে চিকিৎসার নামে মানসিক রোগীকে পিটিয়ে ও ডুবিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভুয়া ফকিরসহ তিনজন গ্রেপ্তার।

সম্প্রতি সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানের সব থেকে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে ধর্ষণ এবং হত্যা। প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধরনের বিভিন্ন ঘটনা দেশবাসীর নজরে আসছে। দ্রুততম সময়ের মাঝে ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে র্যাব সব সময় জোরালো ভূমিকা পালন করে আসছে।

গত ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার আউলিয়াপুরে চিকিৎসার নামে কালাম মৃধা(৪২) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করা হয় এবং ঘটনার পর থেকেই মূল আসামিসহ অন্য আসামি পলাতক ছিল। এ বিষয়ে র‌্যাব-৮ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে র‌্যাব-৮ এর একটি বিশেষ আভিধানিক দল জানতে পারে যে, ১ নং আসামি রিয়াজউদ্দিন ফকির তার স্ত্রী ও ছেলেসহ বরিশালে রুপাতলি এলাকায় অবস্থান করছে। তারপর অভিযান পরিচালনা করে অদ্য ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখ সকাল ১১.৩০ ঘটিকার সময় রুপাতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কালাম মৃধার স্ত্রী শুক্রবারে সকালে দুই দেবর কে সাথে নিয়ে রিয়াজ ফকিরের বাড়িতে যাই। রিয়াজ ফকির তার চাচাতো ভাই অসীম ফকির সহ ৪-৫ মিলে সকালে ও বিকালে কালামৃধা কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও বাড়ির পুকুরে চুবায়। এতে কালাম মৃধা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মাজারসংলগ্ন একটি রুমে রাখা হয়। কালামৃধা সন্ধ্যায় মারা যাওয়ার পর হত্যাকারীরা তাহার লাশ বাড়ির পাশে বাগানে ফেলে রাখে। আসামি দাদার মৃত ফকির আব্দুর রহমান মুন্সি @কালুশা দেওয়ান প্রথম জীবনে মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন এবং মুন্সী পদবী গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ফরিদপুরের দত্তপাড়ায় মোহনসা দেওয়ান এর মুরিদ হয়ে এলাকায় এসে দরগাহ/খানকাহ খোলেন। তার মৃত্যুর পর আসামির চাচা সাম দেওয়ান উক্ত পিরদানি চালিয়ে যান এবং নাম দেন দেওয়ান মাজার যা বরিশালের কাউনিয়া তে অবস্থিত। সাম দেওয়ান মারা যাওয়ার পর তার ছেলে খোকন দেওয়ান পিরদানী চালু রাখেন। খোকন দেওয়ান মারা যাওয়ার পর ৪.৫ বছর ধরে বাকেরগঞ্জের আউলিয়াপুরে আসামি পিরদানী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। মৃত কালামৃধা মানসিক রোগে ভুগছিলেন। গত ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ শুক্রবার এ কালামের চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার নামে রোগীকে রিয়াজউদ্দিন এর হুকুমে প্রচন্ড মারধর করে এবং পুকুরে ঠান্ডা পানিতে ১০১ বার চুবায়। ফলে রোগী মারা যায়। আসামি ফকির ব্যবসার মাধ্যমে রোগীদের ভুয়া চিকিৎসা দেয় এবং তাদের কাছ থেকে টাকা গরু-ছাগল, চাল, মুরগি ইত্যাদি জিনিস গ্রহণ করে থাকে।

আসামিদের নাম ঠিকানা ১) মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ফকির(৪৮), পিতাঃ মৃত কাঞ্চন আলী ফকির, ২) মোছাঃ তাসলিমা আক্তার লাকি(৪২), স্বামীঃ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ফকির, ৩) মোঃ তৌহিদুর রহমান(১৮), পিতাঃ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ফকির, সর্ব সংঃ আউলিয়াপুর, থানাঃ বাকেরগঞ্জ, জেলাঃ বরিশাল বলে জানায়। আটককৃত তিনজনই প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বাকেরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।