অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনে মৃত্যু, ধর্ষণের আলামতও সংগ্রহ স্বর্ণার

18

অনলাইন ডেস্কঃ বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে; তবে নিহতের বন্ধুদের বরাতে চিকিৎসক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের কারণে অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু ওয়ালী আহমদ খান নামের এক তরুণকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত স্বর্ণা রশিদ (২১) রাজধানী ঢাকার কোতোয়ালি থানার চকবাজার ৭ নম্বর বেগম বাজার এলাকার হারুন অর রশিদের মেয়ে। তার বাবা একজন ব্যবসায়ী। তিনি বিট্রিশ কাউন্সিলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্রী ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে এ তরুণীর মৃত্যু হয় বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান।

নিহতের সঙ্গে বেড়াতে আসা বন্ধু ও হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে খায়রুজ্জামান বলেন, গত শুক্রবার সকালে কয়েকজন বন্ধুসহ স্বর্ণা রশিদ কক্সবাজার বেড়াতে আসে। এরপর তারা কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার হোটেল-মোটেল জোনের আবাসিক হোটেল জামানে ওঠে। বিকেলে তারা সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ শেষে হোটেলে ফেরে।

সন্ধ্যার দিকে স্বর্ণা রশিদ অসুস্থতা বোধ করলে বন্ধুরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে নিয়ে বন্ধুরা হোটেলে ফিরে যায়। পরে রাতে স্বর্ণা রশিদ আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বর্ণার রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ার খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ হাসপাতাল আসে। তাকে নিয়ে আসা অন্য বন্ধুরা পালিয়ে গেলেও হাসপাতালে অবস্থানরত ওয়ালী আহমদ খান নামের এক বন্ধুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠান।

পরিদর্শক (তদন্ত) আরও বলেন, স্বর্ণার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না হওয়ায় তার মৃতদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে শুধু ইয়াবা সেবন নয়, সে বন্ধুদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে কিনা সে আলামত সংগ্রহ করেছেন চিকিৎসকরা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে স্বর্ণার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান খায়রুজ্জামান।

এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শনিবার সকালে কক্সবাজার এসে পৌঁছান স্বর্ণার বাবা হারুন অর রশিদ।

নিহতের বাবার বরাত দিয়ে পরিদর্শক (তদন্ত) খায়রুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে মামার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে স্বর্ণা রশিদ ঢাকার বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে জানতে পারেন বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছিল। শনিবার রাতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন মো. আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্ধুরা অজ্ঞান অবস্থায় স্বর্ণা রশিদ নামের এক তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই স্বর্ণার মৃত্যু হয় বলে জানান আরএমও শাহীন।