আইএস এর টুপির বিষয়ে যা বললেন জঙ্গি রিগ্যান

10

অনলাইন ডেস্কঃ ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মনোগ্রাম সম্বলিত টুপির বিষয়ে মুখ খুলেছেন হলি আর্টিজান মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সেই আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যান। আদালত প্রাঙ্গণে লোকজনের ভিড়ের মধ্যে কেউ একজন তাকে টুপিটি দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রিগ্যান (২২)।মঙ্গলবার(৩ ডিসেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আরেক মামলার শুনানিতে এসে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত এই জঙ্গি।

জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান জানান, গুলশান হামলার মামলার রায়ের দিন আদালত পাড়ায় ‘অচেনা’ এক ব্যক্তির কাছ থেকে টুপিটি পেয়েছিলেন।

ছয় দিন পর আদালতে আসামি রিগ্যানকে পেয়ে বিচারক মজিবুর রহমান জানতে চান, ওই টুপিটি কোথায় পেয়েছিলেন। কাঠগড়ায় থাকা রিগ্যান তখন বলেন, গুলশান হামলার মামলার রায়ের দিন আদালত পাড়ায় ভিড়ের মধ্যে ‘অচেনা একজন তাকে টুপিটি দিয়েছে।

আর কাউকে কি টুপি দিয়েছিল- প্রশ্নে রিগ্যান বলেন, আর কাউকে দেয়নি। প্রিজন ভ্যানে ওঠার পর আরেক আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী ওই টুপিটিই নিয়ে পড়েছিলেন।টুপিটি নিলেন কেন- জানতে চাইলে রিগ্যান বলেন, ভালো লাগায় টুপিটি নিয়েছেন তিনি।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত রিগ্যানকে মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়ির জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের মামলায়। এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানই গত ২৭ নভেম্বর গুলশান হামলার মামলার রায় দিয়েছিলেন। সেদিন এজলাসে জঙ্গি রিগ্যানের মাথায় আইএসের চিহ্ন সম্বলিত টুপি দেখার পর শুরু হয় সমালোচনা

রিগ্যানের পর দণ্ডিত জঙ্গি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধীকে আদালত থেকে কারাগারে নেয়ার পথে প্রিজন ভ্যানে তার মাথায় দেখা যায় আইএসের পতাকার চিহ্ন সম্বলিত টুপি। আইএসর চিহ্ন সম্বলিত ওই টুপি কীভাবে গুলশান হামলার বন্দি আসামিরা পেলেন, তার খুঁজতে কারা কর্তৃপক্ষ ও ডিবি পুলিশ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

কারা কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগার থেকে ওই টুপি নিয়ে যাননি আসামিরা। ডিবি পুলিশের তদন্ত কমিটি এখনও প্রতিবেদন না দিলেও বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আসামিরা কারাগার থেকেই ওই টুপি নিয়ে এসেছিলেন।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে রিগ্যান টুপির উৎসের বিষয়ে যে তথ্য দিলেন সেটি সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে পাহারায় থাকা পুলিশের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়েই।তবে, ডিএমপির ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ জাফর হোসেন বলেন, কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এভাবে টুপি সরবরাহ করা সম্ভব নয়।

২০১৬ সালের পহেলা জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার পর জঙ্গি দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।তাতে ২৫ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলে। সেখানে অভিযানে ৯ জন নিহত হন, আহত অবস্থায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন বগুড়ার রিগ্যান।

বিএনএনিউজ২৪.কম/আর করিম চৌধুরী,এস জি নবী