প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ দেবে জাবির আন্দোলনকারীরা

2

অনলাইন ডেস্কঃদুর্নীতির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (৮ নভেম্বর)সকাল ১১ টার দিকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ও প্রতিবাদী পটচিত্র অঙ্কন এবং পুরো ক্যাম্পাসে প্রদর্শনীর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দর্শন বিভাগের ও মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য প্রমাণ জমা দেয়া হবে। আমাদের কাছে যে প্রমাণগুলো আছে তাতে করে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম আর কোন ভাবেই তার পদে থাকতে পারেন না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকিবুল রনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবার প্রয়োজন বোধ করছি। মেগাপ্রজেক্টের কাজ শুরু করার পূর্বে ই-টেন্ডার পদ্ধতির বদলে ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে টেন্ডার আহবান করা হয়। ফলশ্রুতিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকর্তৃক টেণ্ডারের শিডিউল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তা নিয়ে দৈনিক পত্রিকাগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের টাকার ভাগ বাটোয়ারার বিস্তারিত তথ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশিত হয়। একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি ও তার পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুর্নীতির সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অংশীজনসহ পুরো জাতি হতবাক হয়ে যায়। টাকা ভাগাভাগির ব্যাপারে দুজন সাংবাদিক উপাচার্যের কাছে তার মন্তব্য জানতে গেলে তাদেরকেও হেনস্তা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতির ঘটনা পুরোপুরি অস্বীকার করে। এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতিতে বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যূত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি “বিশেষ” অংশ আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভিসিপন্থী শিক্ষকরা এই হামলায় উস্কানি দেয়। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন শিক্ষকসহ অন্তত ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হয়। এই ন্যাক্কারজনক হামলাকে উপাচার্য “গণ অভ্যুত্থান” হিসেবে আখ্যায়িত করেন! ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার সাথে তুলনা করবার স্পর্ধা জাতি ভালোভাবে নেয়নি। এর মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বৈরাচারী কায়দায় হল ভ্যাকেন্টের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়। এমনকি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়। কেড়ে নেয়া হয় সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার।

রাকিবুল রনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা জানাতে চাই, আমাদের আন্দোলন যৌক্তিক এবং শান্তিপূর্ণ। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ও উপাচার্যের দ্বারা ষড়যন্ত্র, সন্তাস ও নির্যাতনের স্বীকার। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হলে উপাচার্য এবং তাঁর পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দুর্নিতিতে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলবে। এই ঘটনার তদন্ত হলে তা চলাকালীন সময়ে এই উপাচার্য তার পদে আসীন থাকতে পারবেন না। কেননা আমরা মনে করি, এই উপাচার্য পদে আসীন থাকা অবস্থায় তদন্ত হলে, তা পক্ষপাতদুষ্ট হবে। আরেকটি ব্যাপার স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে দাবিভিত্তিক । দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের এই আন্দোলন কোন ব্যাক্তি কিংবা গোষ্ঠীর স্বার্থে পরিচালিত নয় । বরং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে দুর্নীতির যে কালিমা লেপন করা হয়েছে তারই বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা একটি নৈতিক আন্দোলন। সারাদেশেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের যে জিরো টলারেন্স অবস্থান সে অবস্থান থেকে সরকার স্ফতঃস্ফূর্ত হয়েই এই অভিযোগের বিষয় আমলে নেয়া দরকার বলেই আমরা মনে করি।

বিএনএনিউজ২৪.কম/শাকিল,ফয়সাল/ হাসান মুন্না।